কে হচ্ছেন ঢাকার নতুন পুলিশ কমিশনার?

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

কে হচ্ছেন ঢাকার নতুন পুলিশ কমিশনার?

প্রীতম সাহা সুদীপ ৬:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৯

কে হচ্ছেন ঢাকার নতুন পুলিশ কমিশনার?

দীর্ঘ ৩২ বছরের চাকরি জীবনের ইতি টানতে যাচ্ছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। চলতি মাসের ১৩ আগস্ট অবসরে যাচ্ছেন গত ৪ বছর ধরে ঢাকার কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আছাদুজ্জামান মিয়ার এই পদ খালি হওয়ার পর তার স্থানে কাকে স্থলাভিষিক্ত করা হবে তা নিয়ে এখন চলছে নানা হিসাব নিকাশ, আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ এই পদটিতে যোগ্য কর্মকর্তাকে বাছাই করার কাজও শুরু করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম থাকলেও কে হচ্ছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এখনও যাচাই-বাছাই চলছে। তবে স্বাভাবিক নিয়মেই ডিএমপি কমিশনার নিয়োগ দেয়া হবে।

এদিকে ডিএমপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য কমিশনার হিসেবে আলোচনায় সবার প্রথমে নাম রয়েছে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান শফিকুল ইসলামের।

পুলিশের এই কর্মকর্তা ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ‘ইতিবাচক’ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। যে কারণে সরকারের উচ্চমহলে তার বেশ সুনাম রয়েছে। আর তাই ‘ক্লিন’ ইমেজের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তাকে ঢাকার পুলিশ কমিশনার হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করার অনেকটা সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া আলোচনায় আছেন পুলিশ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপির (চলতি) দায়িত্বে থাকা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনও। পুলিশ প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর 'গুডবুকে' নাম রয়েছে এই কর্মকর্তার।

গত ১৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্বে থাকা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপির চলতি দায়িত্বে পদায়ন করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি ও নৌপুলিশের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসানের নামও শোনা যাচ্ছে সম্ভাব্য ডিএমপি কমিশনার হিসেবে।

সম্প্রতি কঙ্গোতে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজের তৎকালীন রেক্টর (অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক) রৌশন আরা বেগম। ওই পদে স্থলাভিষিক্ত হন শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান।

কমিশনার হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি শাহাব উদ্দীন কোরেশীও। ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। এরপর তাকে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ ও উন্নয়ন) এর দায়িত্ব দেয়া হয়।

সিনিয়র এই চার পুলিশ কর্মকর্তার বাইরে ডিএমপি কমিশনার নিয়োগে যদি কোন চমক দেয়া হয় সেক্ষেত্রে নাম আসতে পারে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমানের। তবে তাদের কমিশনার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও যেকোন একজনকে ‘ভারপ্রাপ্ত কমিশনার’ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র।

প্রসঙ্গত, অবসর নিতে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (বিসিএস) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনার সময় দক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন ঢাকার এই পুলিশ কমিশনার। চাকরি জীবনে আছাদুজ্জামান মিয়া পুলিশ সুপার হিসেবে সুনামগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইল জেলায় এবং ডিআইজি হিসেবে খুলনা, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও হাইওয়ে রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ৪ আগস্ট রোববার রাতে ডিএমপির ফেসবুক পেজে ‘জননিরাপত্তা বিধানে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক লাইভ অনুষ্ঠানে এসে নিজের অবসরের কথা সকলকে মনে করিয়ে দেন আছাদুজ্জামান মিয়া।

‘দীর্ঘ ৩২ বছর পুলিশে চাকরি করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকে প্রিয় ইউনিফর্মটা আর পরতে পারবো না। এটা অনেক কষ্টের।’ আবেগ ভরা কন্ঠে এভাবেই মনের কষ্টের কথা বলেন ঢাকার বিদায়ী এই কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘আমি সম্মানিত নাগরিকদের কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে, যেসব জেলায় অনেকদিন চাকরি করেছি। আমি তাদের যে ভালোবাসা, সমর্থন, সহযোগিতা পেয়েছি, তাতে অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। চেষ্টা করেছি জনগণের জন্য কাজ করার, দেশের জন্য কাজ করার।’

পিএসএস/এসবি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও