জিনের ভয় দেখিয়ে নারী-শিশুদের ধর্ষণ করতেন এই ইমাম

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জিনের ভয় দেখিয়ে নারী-শিশুদের ধর্ষণ করতেন এই ইমাম

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৯

জিনের ভয় দেখিয়ে নারী-শিশুদের ধর্ষণ করতেন এই ইমাম

ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবজ এবং জিনের ভয় দেখিয়ে শিশু ও নারীদের ধর্ষণ করতেন রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি মসজিদের ইমাম ইদ্রিস আহম্মদ (৪২)। এখন পর্যন্ত তিনি জিনের ভয় দেখিয়ে চার-পাঁচ জন নারীকে ধর্ষণ করেছেন, শুধু তাই নয় স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দীর্ঘ ১৮ বছর শিক্ষকতা করা এই ব্যক্তি কমপক্ষে ১২ কিশোরকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন।

ইমাম ইদ্রিসকে গ্রেফতারের পর সোমবার দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইদ্রিস দক্ষিণখানের স্থানীয় একটি মসজিদে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ইমামতি করতেন, পাশাপাশি মসজিদটির মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। তার বিরুদ্ধে চার-পাঁচ জন নারী ও ১০-১২ কিশোরকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জিনের ভয় দেখিয়ে ইদ্রিস এসব অপকর্ম করে আসছিলেন।

সারওয়ার বিন কাশেম আরো বলেন, সম্প্রতি এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। অনুসন্ধানকালে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। তাকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আর সে মোবাইল ফোনে এসব অপকর্মের অনেকগুলো ভিডিও ও স্থিরচিত্র পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ইদ্রিস এলাকায় গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি জিনকে বশ করতে পারেন, যেকোনো সমস্যার সমাধান দিতে পারেন। এলাকার মানুষ তার এসব আধ্যাত্মিক শক্তির কথা বিশ্বাস করতেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইদ্রিস বিধবা মেয়ে বা যেসব নারীর স্বামী বিদেশে থাকে তাদেরকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করতেন।

এছাড়া মসজিদ ও মাদ্রাসার খাদেম এবং ছাত্রদের জোরপূর্বক বলাৎকার করতেন ইদ্রিস। একইসঙ্গে তিনি এসব মোবাইলে ধারণ করে রাখতেন এবং কাউকে না বলার জন্য জিনের হুমকি দিতেন।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, আমাদের কাছে এমনও অভিযোগ আছে যে একটি শিশুকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই ব্যক্তি বলাৎকার করে আসছেন। মসজিদের একটি বিশেষ কক্ষে ঘুমাতেন। তার সকল অপকর্ম ওই কক্ষেই সম্পন্ন করতেন এবং তার এই অপকর্মের ভিডিওগুলো খাদেমদের দিয়ে ধারণ করাতে বাধ্য করতেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইদ্রিস প্রত্যেকটি ঘটনায় জড়ি থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

র‌্যাব জানায়, অভিযুক্ত ইদ্রিস আহমেদ সিলেটে বসবাস করতেন। সিলেটের একটি মাদ্রাসা থেকে ১৯৯৮ সালে টাইটেল পাস করেন। এরপর তিনি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের একটি মসজিদে ইমামতি এবং পাশাপাশি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০০২ সালে ঢাকায় আসেন এবং দক্ষিণখানের ওই মসজিদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও