ভয়াবহ এক খুনের রহস্য উদঘাটন

ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

ভয়াবহ এক খুনের রহস্য উদঘাটন

প্রীতম সাহা সুদীপ ২:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

ভয়াবহ এক খুনের রহস্য উদঘাটন

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় গৃহপরিচারিকা আয়েশা (২৮) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা নাজমুলকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) বিভাগ।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে নাজমুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চেতনানাশক ওষুধ, মোবাইল সিমকার্ড ও জিআই তার।

রোববার দুপুরে ডিবি (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. গোলাম সাকলায়েন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, দুই বছর আগে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় আয়েশার। ১২ বছরের এক ছেলে সন্তান ও ৮ বছরের এক কন্যা সন্তান নিয়ে বিপদে পড়েন আয়েশা। তার স্বামী জসিম পেশায় ট্রাক ড্রাইভার, তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন টাংগাইলে।

আয়েশা গৃহপরিচারিকার কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতে থাকেন। দুই সন্তানকে নিয়ে ভাটারা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। সেখানেই তার সাথে পরিচয় হয় প্রতিবেশী নাজমুলের। নাজমুল এক সময় প্রাইভেটকার চালাতেন, তবে বর্তমানে ইয়াবার ব্যবসা করেন। নাজমুলের সাথে আয়েশার আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠলে তিনি আয়েশাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এক কবিরাজের বান মারার কারনেই তার স্বামী জসিম দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এমন অবস্থা থেকে কিভাবে বাঁচা যায়, কিভাবে ফেরৎ পাওয়া যাবে স্বামীকে, ছেলেমেয়েরা কিভাবে পাবে তাদের বাবার আদর-ভালোবাসা?

আয়েশার স্বামীকে বশে আনার উদ্দেশ্যে প্রতারণা করে নাজমুল প্রায় ২৪০০ টাকা নেয় এবং কবিরাজের কথা বলে তার সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। এক পর্যায়ে আয়েশার স্বামী জসিম উদ্দিন তার দ্বিতীয় স্ত্রীসহ টাংগাইল থেকে ঢাকায় আসে তার বোনের বাসায়। ওই ঘটনার সুযোগ নেয় নাজমুল। আয়েশাকে বুঝাতে চেষ্টা করে যে কবিরাজের মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছে।

গত ৪ জুলাই দিবাগত রাতে নাজমুলের সাথে আয়েশার অনেক কথা কাটাকাটি হয়। নাজমুল তার কাছে যেতে চাইলে সে উত্তেজিত গলায় বলে যে আমার টাকা নিয়েছেন, আমার চরিত্র নষ্ট করেছেন, এখন আমার স্বামীও আসল না তাহলে আমার টাকা ফেরৎ দেন নইলে ভাল হবে না। দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় নাজমুল।

তখন সে আয়েশাকে বোঝায় তাকে “বাঁধা বান” মেরেছে তার সতীন হামিদা। সেটা কাটাতে কবিরাজ পানিপড়া দিয়েছেন বলে ঘুমের ওষুধমিশ্রিত পানি পান করায়। তাকে বোঝায় যে এটা কবিরাজের নির্দেশ। একপর্যায়ে আয়েশা অচেতন হয়ে পড়লে তার হাত-পা বেঁধে জিআই তার গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নাজমুল। পরে তার লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। শনিবার নাজিমুলকে গ্রেফতার করার পর জিজ্ঞাসাবাদে সে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দেয়। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও