নারী সদস্য বাড়াতে প্রেমের বিয়ের ফাঁদ জঙ্গিদের! 

ঢাকা, ১৬ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

নারী সদস্য বাড়াতে প্রেমের বিয়ের ফাঁদ জঙ্গিদের! 

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

নারী সদস্য বাড়াতে প্রেমের বিয়ের ফাঁদ জঙ্গিদের! 

নারী সদস্য বৃদ্ধিতে দাওয়াতি নতুন পন্থা অবলম্বন করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। প্রথমে তারা ধর্মভীরু নারীদের টার্গেট করছে। এরপর টার্গেট করা নারীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচিত হয়ে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করছে। এক পর্যায়ে পালিয়ে বিয়ে করার পর সেসব নারীদের জঙ্গিবাদে মোটিভেট করা হচ্ছে।

প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলে জঙ্গি সংগঠনে অন্তর্ভুক্তির দায়ে আনসার আল ইসলামের এমন দুইজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। এ সময় ভুক্তভোগী এক নারীকে উদ্ধারও করেছে এলিট এই ফোর্স।

মঙ্গলবার বিকালে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান।

এমরানুল হাসান জানান, র‌্যাব-২’র একটি আভিযানিক দল সোমবার দিবাগত রাতে বরিশাল শহরের একটি মাদ্রাসায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সাফিয়া আক্তার তানজী নামে এক নারীকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আনসার আল ইসলামের সক্রিয় নারী সদস্য জান্নাতুল নাঈমাকে (২২) গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পরে নাঈমার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনসার আল ইসলামের আরেক সক্রিয় সদস্য মো. আফজাল হোসেনকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়। 

র‌্যাব মিডিয়ায় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাঈমা ও আফজাল ভুক্তভোগী নারী তানজীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল নিয়ে আসে এবং জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত করার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন।

সাফিয়া আক্তার তানজীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, চট্টগ্রামের একটি কলেজে বিবিএ অধ্যয়নরত ছিলেন তানজী। শহরে বসবাস করতেন তিনি। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নাঈমাসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানেই একটি গ্রুপে তাকে যুক্ত করেন নাঈমা। পরে নাঈমা ও অন্যান্য নারী সদস্যদের মাধ্যমে বরিশাল নিবাসী সহিফুল ওরফে সাইফের সঙ্গে পরিচয় হয় তানজীর। ফেসবুকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। ফেসবুকের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পর নাঈমা ও অন্যান্য নারী সদস্যদের প্ররোচণায় সাইফের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে গত ২৬ জুন ঘর ছাড়েন তানজী। এ সময় নাঈমা তার সঙ্গে ছিলেন।

বাড়ি ছেড়ে বরিশালে পৌঁছানোর পর তানজীকে নাম পরিচয় গোপন করে নাঈমার বোন হিসেবে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন সাইফ। তানজীর বাবা-মায়ের নামের জায়গায় বসানো হয় নাঈমার বাবা-মায়ের নাম। এরইমধ্যে তানজীর সঙ্গে সাইফের বিয়েও হয়। এই সময়ের মধ্যে তানজীকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্নভাবে প্ররোচণা চালায় সাইফ ও নাঈমা।

তিনি আরও জানান, নাঈমা ও সাইফের প্ররোচণায় তানজী জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের নারী সদস্য বৃদ্ধিতে দাওয়াতি কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। বেশ কয়েকজন নারীকে তিনি জঙ্গিবাদে অর্ন্তভুক্ত করেছেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, কৌশলগত কারণে জঙ্গিরা নারী সদস্য বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ধর্মভীরু নারীদের টার্গেট করতো তারা। এরপর বিয়ের ফাঁদে ফেলে জঙ্গিবাদে জড়াতো সেই নারীকে।

এদিকে গ্রেফতার হওয়া মো. আফজাল হোসেন সম্পর্কে র‌্যাব কর্মকর্তা এমরানুল জানান, দীর্ঘদিন ধরে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত আছেন তিনি। বর্তমানে রাজধানী ঢাকার নিকটস্থ একটি এলাকার স্থানীয় সংগঠকের ভূমিকা পালন করছেন আফজাল। জিজ্ঞাসাবাদে সংগঠনের নির্দেশনা অনুসারে নারী সদস্যদের দলে অন্তর্ভুক্তি ও নারী সদস্যদের দ্বারা নাশকতা পরিকল্পনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন তিনি।

গ্রেফতার হওয়া দুজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উয়িংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান।

পিএসএস/এসবি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও