‘টাকা তো দিলা না, খাটের নিচ থেইকা লাশ নিয়া যাইয়ো’

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

‘টাকা তো দিলা না, খাটের নিচ থেইকা লাশ নিয়া যাইয়ো’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:১৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

‘টাকা তো দিলা না, খাটের নিচ থেইকা লাশ নিয়া যাইয়ো’

‘টাকা তো দিলা না, খাটের নিচ থেইকা মাইয়ার লাশ নিয়া দাফন কইরো।’ যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় স্ত্রী শারমিন আক্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর শাশুড়ীকে ফোন করে এসব কথা বলেছিলেন আমির হোসেন।

গত ১ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেটের পাশে সাদেক খান রোডে একটি বাসায় খুন হন শারমিন আক্তার। মামলার তদন্ত করে সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকা থেকে স্বামী আমির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন আমির।

মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, গত ১ জুলাই মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের পাশে সাদেক খান রোডের একটি বাসা থেকে শারমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান ওই বাড়ির কেয়ারটেকার। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শারমিনকে উদ্ধারের সময় তার মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল, শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন এবং পায়ের রগ কাটা ছিল। শারমিন তার স্বামী আমিরের সাথে ওই বাসাতেই থাকতেন, ঘটনার পর থেকেই আমির পলাতক ছিলেন।   

ডিআইজি বনজ আরো জানান, ওই দিনই শারমিনের বাবা বাদি হয়ে জামাতা আমির হোসেনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পিবিআইকে।

চট্টগ্রাম ইপিজেডে একটি বাসায় আত্মগোপনে আছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে সোমবার আমিরকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই প্রধান বলেন, গত ৩০ জুন শারমিনের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে আমির। শারমিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন তার মা ফজিলাত বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক চান আমির। টাকা না দিলে মেয়েকে খুন করে লাশ খাটের নিচে ফেলে রাখার হুমকিও দেন আমির হোসেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন ভোর রাতে আবারো শারমিনের মার কাছে ফোন করেন আমির। বলেন- ‘টাকা তো দিলা না, খাটের নিচ থেইকা মাইয়ার লাশ নিয়া দাফন কইরো।’ তার কিছুক্ষণ পরই মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ফজিলাত বেগমকে ফোন করে পঙ্গু হাসপাতালে যেতে বলে। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়ের লাশ দেখতে পান।

ডিআইজি বনজ বলেন, যৌতুকের জন্য বারবার বিয়ে করা আমিরের স্বভাব ছিল। আমির হোসেন এর আগেও যৌতুকের জন্য দুইটি বিয়ে করেছিল। বিয়ে করে কাবিননামা গোপন করে আবার বিয়ে করতো সে।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও