ঈদের পরেও ভাড়ার নৈরাজ্য অব্যাহত

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

ঈদের পরেও ভাড়ার নৈরাজ্য অব্যাহত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ০৬, ২০১৯

ঈদের পরেও ভাড়ার নৈরাজ্য অব্যাহত

ঈদে ঘরমুখো মানুষ থেকে ভাড়া আদায়ে এবার যেকোনো সময়ের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বাস কর্তৃপক্ষ। বলা চলে গলা কেটেছে।

দূরপাল্লার ভাড়া টিকিট প্রতি দেড় গুণ, দ্বিগুণ থেকে কয়েকগুণও হয়েছে। ভাড়া আদায়ের এই নৈরাজ্য ঈদের পরেও অব্যাহত রয়েছে।

যাত্রাপথের ভোগান্তি এড়াতে ঈদের পরের দিন যারা বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের থেকে রীতিমতো গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন জেলায় যেতে যাত্রীদের নির্ধারিত ৪০০ টাকার পরিবর্তে এক, দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।

একই অবস্থা নগরীতেও। ঈদ বকশিসের নামে গন্তব্যের নির্ধারিত ভাড়ার থেকে বিগত কয়েক দিন ধরে ১০ টাকা ২০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।

আত্মীয়ের বিদেশযাত্রার জন্য সোমবার রাতে ঢাকায় আসেন ঝিনাইদহের শৈলকুপার আলতাফ হোসেন। মঙ্গলবার রাতে স্বজন বিদেশ গেলেও সঙ্গীসহ তিনি যেতে পারেননি।

ঈদের দিন গাড়ি পাননি। ফলে পরের দিন গাবতলীতে গিয়ে থ বনে যান। ঝিনাইদহগামী স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ৪৫০ টাকা ভাড়া, সেটি চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার।

আলতাফ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘৪৫০ টাকা ভাড়া। ঈদের আগে স্বজনেরা বাড়িতে এসেছেন ৬০০ টাকা দিয়ে। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা এসে আমরা ফেঁসে গেলাম। বাড়ি যেতে হবে, তাই চারজনের জন্য পূর্বাশা পরিবহনের চারটি সিট নিলাম ৪ হাজার টাকা দিয়ে।’

ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে স্বাভাবিক ভাড়া ২০০ টাকা। কিন্তু, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাউন্টারগুলো নিচ্ছে  ৪০০ কিংবা তারও বেশি।

বৃহস্পতিবার সকালেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ এই পথের যাত্রীদের। গেল ৪ জুন ঢাকা থেকে লাকসামে যেতে যাত্রীদের কাছ থেকে তিশা ট্রান্সপোর্ট ১৮০ টাকার ভাড়া নিয়েছে ৩৫০ টাকা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী যাত্রী মাসুদ মোস্তাহীদ তার ফেসবুকে লেখেন, ‘১৮০ টাকার ভাড়া ৩৫০! এ পুকুর চু‌রি ধরবে কে? ভ্রাম্যমাণ আদালত খা‌লি আড়ং- এ যায়। দু’এক‌দিন এদিকে কি আসা যেত না?’

পোস্টে তিনি ভাড়ার পরিমাণ লেখা টিকিটের ছবিও পোস্ট করেছেন।

বাড়তি ভাড়া নেয়ার ঘটনা শুধুমাত্র ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে যাওয়ার বাসে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ঢাকার মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় যেতেও এ ঘটনা ঘটছে।

ফেসবুকে প্রিন্স নুর নামে একজন লেখেন, ‘৬০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা।’ আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি তার এফবি আইডিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রিন্স নুর বলেন, ‘সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী থেকে দাউদকান্দি, গৌড়িপুর ও ইলিয়সাগঞ্জ যেতে যেখানে ৬০ টাকা ভাড়া নিতো, এখন সেই ভাড়া নিচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকার ভেতরে চলা লাব্বাইক, ১২ নাম্বার, মেশকাত, মঞ্জিল পরিবহন এবং এম এল লাভলু নামের বাসের এসব বাস এমন অধিক ভাড়া নিয়ে এসব যাত্রী বহনের কাজ করছে।’

ঈদের আগে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি দুটি টার্মিনালে গিয়েছি, সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ আছে। মালিকদের একটা কথা আছে। সেটা হলো তারা যাওয়ার পথে যাত্রী পায়, আবার আসার পথে খালি আসে। আমি বলেছি, সারা বছরতো ইনকাম করেন। এখন একটু ইনকাম কম করেন।’

বাস মালিকদের কাছে সরকার কি পরাজিত— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। এটা মানসিকতার বিষয়। আমরা বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখছি। আমাদের ব্যবস্থা গ্রহণের বিয়টি যাতে বাস্তবে যথাযথভাবে প্রয়োগ হয়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করব।’

কিন্তু, ঈদযাত্রায় যাত্রীরা এর কোনো বাস্তবায়ন প্রয়োগ না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা সরকারকে এই খাতের নৈরাজ্য নিরসনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এসএস/আইএম

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও