বছিলায় নদী-খাল দখল করে হাউজিংয়ের রাস্তা (ভিডিও)

ঢাকা, ১৬ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

বছিলায় নদী-খাল দখল করে হাউজিংয়ের রাস্তা (ভিডিও)

শাহাদৎ স্বপন ৪:৩১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৯

নদী বাঁচাতে বুড়িগঙ্গা-তুরাগ তীরে যখন সরকারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ জোরেশোরে চলছে, তখনই নদী-খাল ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে বছিলা ফিউচার টাউন ও বছিলা গার্ডেন সিটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দুটি হাউজিং প্রকল্প ছোট ছোট খাল দখল করে সড়ক নির্মাণের কৌশল নিয়েছে।

মোহাম্মাদপুর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমে বেড়িবাঁধ মোড় থেকে বছিলা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের পশ্চিমে বুড়িগঙ্গা-তুরাগ নদীর মিলনকেন্দ্র।

বছিলা ফিউচার টাউন হাউজিংয়ের মালিক দ্বীন মোহাম্মাদ

এর পূর্বদিকে বছিলা ফিউচর টাউন, পশ্চিমে বছিলা গার্ডেন সিটি। এই দুই হাউজিং প্রকল্পের সংযোগ সড়কের পুরোটাই সরকারি খাল দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। দখলের সড়ক বলে এর কোনো নামকরণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া কাটাসুর মৌজার উত্তর প্রান্ত দিয়ে একটি খাল এসে মিশেছে বুড়িগঙ্গায়। সেখানেরও বেশিরভাগ দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে হাউজিংয়ের সড়ক।

অথচ জমির মালিকদের কাছ থেকে হাউজিং কর্তৃপক্ষ ২৫ শতাংশ জমি সড়ক নির্মাণের জন্যই নিয়েছেন। কিন্তু, সেই জমি চড়া মূল্যে অর্থাৎ প্রতি কাঠা ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিকরা।

সরেজমিনে কাটাসুর ও রামচন্দ্রপুর মৌজার বুড়িগঙ্গা নদীর পূর্ব অংশ দখলের কারণে পশ্চিম অংশে ভাঙন শুরু দেখা গেছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরনো সোয়ালমাসী গ্রাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা খাল ভরাট করে সড়ক নির্মাণে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু, তা হাউজিং কর্তৃপক্ষ শোনেনি। প্রকল্পের মালিক দ্বীন মোহাম্মাদ তখন আমাদের বলেছিলেন, রাস্তা কোনো দিনই সরকার নেবে না। এজন্য সরকারি জায়গা ভরাট করে আমরা রাস্তা নির্মাণ করেছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি প্রবাসী জমির আরেক মালিক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এরা এমন খারাপ যে, এক জমি একাধিক মানুষের কাছেও বিক্রি করে। পরে ঝামেলা বাধলে বেশি টাকা যার কাছ থেকে নিয়েছে, তার কাছে জমি ছেড়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথমে বলা হয়েছি, জমির টাকার মধ্যেই রাস্তা বাবদ অর্থ কেটে নেয়া হয়েছে। কিন্তু, পরে আমাদের নিজস্ব জমি থেকে রাস্তার জন্য ছাড় দিতে হয়েছে।’

‘বছিলা ফিউচার টাউন’ হাউজিংয়ের মালিক দ্বীন মোহাম্মাদ। তিনি বছিলা গার্ডেন সিটিরও ভাইস-চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে দ্বীন মোহাম্মাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় পরিবর্তন ডটকমের এই প্রতিবেদকের। দুই হাউজিং কোম্পানির বিভক্তকারী সড়ক খাল ভরাট করে করা হয়েছে— এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বিব্রতবোধ করেন। উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘তাতে আপনার অসুবিধা কোথায়?’

দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘আপনি (প্রতিবেদক) একদিন অফিসে আসেন, অসুবিধা হবে না। আমরা বসে কথা বলি।’

তিনি দাবি করেন, ‘আমরা হাউজিংয়ের রাস্তা করেছি বলেই আপনি (প্রতিবেদক) প্রকল্প সরেজমিন করতে পেরেছেন। রাস্তা না করলেতো আপনি নিজেও সেখানে যেতে পারতেন না।’

‘এক সময় এখানে মানুষ মাছ ধরতো। আমরা টাকা-পয়সা খরচ করে মাটি ভরাট করায় মানুষ এখন হাঁটা-চলা করতে পারছে’, যোগ করেন দ্বীন মোহাম্মদ।

তিনি হুঙ্কার দিয়েই বলেন, ‘আমার সামনে এসে কেউ বলুক, আমি তার জায়গা লিখে নিয়েছি?’

এ সময় প্রতিবেদকের কাছে এসব অভিযোগ কোন প্লট মালিক করেছে, তাদের নামও জানতে চান দ্বীন মোহাম্মাদ।

হাউজিং দুটির মধ্যে বসবাসরত বেশকিছু জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমির মালিকদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ জায়গা রাস্তা নির্মাণের জন্য নিয়েছেন হাউজিং কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, সেই জমি হাউজিং কোম্পানিগুলো তাদের কোম্পানির নামে দলিল করে নিয়েছে। আর রাস্তা নির্মাণ করেছে ওই এলাকায় থাকা সরকারি খাল ভরাট করে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জমির মালিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে জমির মালিকদের নয়-ছয় বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

খাল ভরাট করে হাউজিংয়ের রাস্তা নির্মাণ বিষয়ে কথা হয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এই খালগুলোর মূল স্টেকহোল্ডার ভূমি মন্ত্রণালয়। আপনারা (সাংবাদিক) বলছেন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

বছিলায় খাল দখল করে হাউজিংয়ের রাস্তা নির্মাণ করা প্রসঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দেখুন, আমাদের জনবল খুবই কম। কিন্তু, তাদের কাজের পরিধি গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, এদিকে সাভার, কেরাণীগঞ্জ ঘিরে। গাজীপুর যদিও সিটি করপোরেশন হয়েছে, কিন্তু তারা পূর্ণাঙ্গরুপে কাজ শুরু করতে পারেনি। এতো বড় এলাকা রাজউকের একার পক্ষে মনিটরিং করা অনেক কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে এমন খাল বা নদী দখলের অভিযোগ পেলে তাকে ন্যূনতম সহানুভূতি দেখানো হবে না। আমরা কঠিন অবস্থানে চলে যাব।’

এসএস/এসবি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও