মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ব্যবহার হচ্ছে খাদ্যপণ্য-প্রসাধন শিল্পে!

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯ | ৮ চৈত্র ১৪২৫

মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ব্যবহার হচ্ছে খাদ্যপণ্য-প্রসাধন শিল্পে!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯

মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ব্যবহার হচ্ছে খাদ্যপণ্য-প্রসাধন শিল্পে!

খাদ্যপণ্য ও প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহার্য মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক পদার্থ (কেমিক্যাল) বিক্রয়ের জন্য সংরক্ষণ করায় রাজধানীর আরমানীটোলার মালা ক্যামিকেলকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে ৪৫ টন মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে র্যা ব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার ভোর ৪টা পর্যন্ত কেমিক্যাল বিরোধী এই অভিযান চালায় র্যা ব-১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরে জব্দ করা ৪৫ টন মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড ডেমরায় নিয়ে ধ্বংস করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, জব্দ কেমিক্যালের অধিকাংশেরই মেয়াদ ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। কেমিক্যালের মেয়াদ শেষ হলেও বিনষ্ট না করে মজুদ রেখে বিক্রি করা হচ্ছিল। এই মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছিল ওষুধ, প্রসাধন শিল্পে ও খাদ্যপণ্যে।

তিনি বলেন, অভিযানে গিয়ে যা বুঝলাম, প্রথমত: বাংলাদেশে যত রাসায়নিক পদার্থ আমদানি করা হয়, তার বেশির ভাগই উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বিহীন। এমনকি কোন কোম্পানি তৈরি করেছে, কোন দেশে তৈরি হয়েছে, তার নাম পর্যন্ত নেই।

দ্বিতীয়ত: মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও কোনো রাসায়নিক পদার্থ বিনষ্ট করা হয়নি। বরং খাবারে বা ওষুধে বা প্রসাধন শিল্পে বা অন্য যে কোনো পণ্য তৈরি করতে ব্যবহার করার লক্ষ্যে মজুত রাখা হয়েছিল। বিক্রিও করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।

প্রশ্ন হলো- এসব পণ্য দেশে ঢুকল কীভাবে বা ব্যবহার করছে কীভাবে। এসব প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোই দিতে পারবে। তবে বেশ কয়েকজন সৎ ব্যবসায়ী এ প্রবণতা বন্ধের উপায় বাতলে দিয়েছেন। ধন্যবাদ তাদের।

সারওয়ার আলম বলেন, অভিযানে দেখা গেছে আজ থেকে ১৪ বছর আগে মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এমন কেমিক্যালও মজুত রাখা হয়েছে। কীসের স্বার্থে! বিক্রি করে মুনাফা অর্জন? কিন্তু এটা করতে গিয়ে খাদ্যপণ্যে ও প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহার হয়ে আসছে মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক। এসব কারণে মালা কেমিক্যালকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর জব্দ ৪৫ টন মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক পদার্থ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড ডেমরায় ধ্বংস করা হয়েছে।

পিএসএস/এসবি