বোকা সেজে বোকা বানাতেন তারা

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯ | ৮ চৈত্র ১৪২৫

বোকা সেজে বোকা বানাতেন তারা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯

বোকা সেজে বোকা বানাতেন তারা

সৌদি আরবের মুদ্রা রিয়াল ভাঙানোর কথা বলে সাধারণ মানুষের সাথে ভয়াবহ প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটির সদস্যরা নিজেরা বোকা সেজে মানুষের কাছে রিয়াল ভাঙানোর ঠিকানা জানতে চাইতো। রিয়েলগুলো কোথায় পেলেন জানতে চাইলে তারা জবাব দিত- ইজতেমার মাঠে কুড়িয়ে পেয়েছে নয়তো কেউ খুশি হয়ে দিয়েছে।

তখন ফাঁদে পড়া মানুষেরা এই চক্রের কাছ থেকে কম দামে রিয়েল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করতো। লোভে পড়ে কম টাকায় রিয়াল কেনার পর বোকা বনে যেত তারা। রিয়ালের বান্ডেলে উপরে কয়েকটা রিয়াল নোট মিললেও ভেতরে থাকতো শুধুই কাগজ। 

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।

এরআগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই প্রতারক চক্রের সাত সদস্যকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

আটকরা হলেন- আবু শেখ (৩৮), শাহিন মাতব্বর (৩৭), মহসিন মিয়া (৪৫), আবুল বাশার (৪০), কামরুল শেখ (৩৫), ইশারত মোল্লা (২৭) ও আব্দুর রহমান মোল্লা (৪০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ রিয়েল, ৩ হাজার ৮২২ টাকা ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, চক্রটি বিভিন্নভাবে জনসাধারণকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করতো। প্রতারকদের সবাই পেশায় রংমিস্ত্রি, সেই সুবাদে সহজেই মানুষের বাসায় প্রবেশ করতে পারতো। কারো বাসায় ঢুকে বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করতো। তারা রিয়েল দেখিয়ে কমমূল্যে বিক্রি করার কথা বলে প্রলোভন দেখাতো। আর ওই ব্যক্তি রাজি হলেই টাকার বিনিময়ে ওপরে কয়েকটি রিয়েল নোট ভেতরে কাগজ দিয়ে বানানো বান্ডেল দিয়ে কেটে পড়তো।

তিনি আরো বলেন, চক্রটি গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকারের যাত্রীদের টার্গেট করতো। তারা গাড়ির বাইরে থেকে রিয়েলের নোট দেখাতো এবং অনেক নোট আছে বলে জানাতো। এ সময় কমদামে কিনতে আগ্রহী সেজে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা আসতো। তখন টার্গেট করা ব্যক্তি কেনার ফাঁদে পা দিলে তারা টাকার বিনিময়ে রিয়েলভর্তি ব্যাগ দিয়ে পুলিশ দেখে ফেলবে বলে দ্রুত কেটে পড়তো। কিছু বুঝে উঠার আগেই কাগজ বা কাপড়-দিয়ে মোড়ানো ভুয়া বান্ডেলে প্রতারণার শিকার হতো টার্গেট করা ব্যক্তি।

এছাড়া হজ ক্যাম্পকে টার্গেট করে চলতো এই চক্রের প্রতারণা। সেখানে গ্রাম থেকে আসা লোকদের ফাঁদে ফেলে এ পর্যন্ত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। কখনো কখনো নিজেরা বোকা সেজে টার্গেট করা ব্যক্তিকে বোকা বানাতো। রিয়েলের নোট দেখিয়ে কিছু বুঝেনা এমন ভাব নিতো। আর সেই সুযোগে টার্গেট করা ব্যক্তি রিয়েল কেনার জন্য রাজি হলেই প্রতারণার শিকার হতো। চক্রটি রিয়েল হস্তান্তর করার জন্য বিভিন্ন শপিংমল কিংবা জনবহুল জায়গা ঠিক করতো, যেন টাকা নিয়ে দ্রুত কেটে পড়তে পারে।

র‌্যাব-১ অধিনায়ক আরও বলেন, আবু শেখ এ চক্রের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে সাত জনের এ চক্রটি অভিনব পন্থায় প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। এমন আরও দুই-একটি চক্র রাজধানীতে সক্রিয় থাকতে পারে, তাদের বিষয়ে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পিএসএস/এসবি