পিডিবির সিবিএ নেতার দখলে ছিল এই সরকারি পাজেরো

ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

পিডিবির সিবিএ নেতার দখলে ছিল এই সরকারি পাজেরো

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

পিডিবির সিবিএ নেতার দখলে ছিল এই সরকারি পাজেরো

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ -এর সাধারণ সম্পাদক স্টেনো-টাইপিস্ট মোঃ আলাউদ্দিন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে দখলে রেখেছিলেন সরকারি একটি গাড়ি। সোমবার পিডিবির সেই গাড়ি উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক টিম মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে এই পাজারো গাড়িটি উদ্ধার করে। প্রায় ১০ বছর ধরে পাজেরো গাড়িটি অবৈধভাবে ব্যবহার করছিলেন তিনি।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, সিবিএ-এর সাধারণ সম্পাদক (অবসর উত্তর ছুটি ভোগরত) স্টেনো-টাইপিস্ট আলাউদ্দিন মিয়া পিডিবির একটি পাজেরো জিপ ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে এবং কর্তৃপক্ষকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করে ব্যবহার করছেন, দুদকের কাছে এমন অভিযোগ আসলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে।

দুদক টিম মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে (ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-২৮২৭) গাড়িটি আটক করে। আটকের সময় গাড়িচালক মোঃ আবুল হোসেন জনি এবং নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ সামছু মিয়া ঘটনাস্থলে ছিল।

অভিযানকালে দুদক টিম জানতে পারে, প্রতিমাসে গাড়িটির জন্য ডিজেল বরাদ্দ হয় ৪৫০ লিটার, যার আর্থিক মূল্য ২৯ হাজার ২৫০ টাকা। এ হারে প্রতি বছরে জ্বালানি বাবদ ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা খরচ হয়। এভাবে সিবিএ নেতা আলাউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে গত ১০ বছরে গাড়িটির জন্য পিডিবি থেকে ডিজেল খরচ তুলেছেন ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি মাসের ড্রাইভারের বেতন বাবদ ৪১ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পর্যন্ত এ গাড়ির ড্রাইভারকে ৩৭ লক্ষাধিক টাকা বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিমাসে গাড়িটির পেছনে ১০ লিটার মবিল এবং মেরামত ব্যয় হয়েছে।

দুদক টিম  আরও জানতে পারে, গাড়িটির লগ বইয়ে আলাউদ্দিন মিয়া স্বাক্ষর করেন না, করেন পিডিবি’র একজন কর্মচারী।

আলাউদ্দিন মিয়া ২০১৭ সালের আগস্টে অবসরে যান। তিনি তখন পিডিবির নকশা ও পরিদর্শন পরিদপ্তরের স্টেনো টাইপিস্ট পদে ছিলেন। গত আগস্টে তার অবসরোত্তর ছুটির (পিআরএল) সময়সীমাও শেষ হয়েছে।

এ অভিযান প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘৩য় শ্রেণির কর্মচারী হয়ে গাড়িটি ২০০৯ সাল থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটির পেছনে গত ৯ বছরে জ্বালানি তেল, মেরামত এবং গাড়িচালকের বেতন বাবদ প্রায় সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আইনত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কোনোভাবেই ফুল টাইম গাড়ি পান না। এ ধরনের আইন অমান্যতা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ধ্বংস করার শামিল, যা ছোট দুর্নীতি থেকে বড় দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করে। দুদক শীঘ্রই এ ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করে আইনানুগ পথে অগ্রসর হবে।’

টিএটি/