পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের কর্ণধারের ‘যৌন হেনস্তা’ নিয়ে বিস্ফোরক শিশির

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের কর্ণধারের ‘যৌন হেনস্তা’ নিয়ে বিস্ফোরক শিশির

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের কর্ণধারের ‘যৌন হেনস্তা’ নিয়ে বিস্ফোরক শিশির

সর্বপ্রথম হলিউডে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেইনের বিরুদ্ধে। যৌন হয়রানির অভিযোগে হার্ভের বিরুদ্ধে একাধিক তারকা নারী মুখ খুলতে থাকেন। এরপরই সেখানে শুরু হয় #মিটু আন্দোলন (যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আন্দোলন)। আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করলে অস্কার কর্তৃপক্ষ বোর্ড থেকে তাকে অপসারণ করেন।   

হলিউডের ঝড় থামতে না থামতেই বলিউডে শুরু হয় #মিটু আন্দোলন। বলিউডের #মিটু মুভমেন্ট চলাকালীন বাংলাদেশের নারীরা একের পর এক মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এক ব্যবসায়ীর যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ খোলেন সাবেক ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ মাকসুদা আখতার প্রিয়তি। এরপরই এক টেলিভিশনের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন শুচিস্মিতা সীমন্তি।

তারপর এক এক করে নারীরা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান দিচ্ছেন তার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির ঘটনা। সর্বশেষ যৌন হয়রানি নিয়ে মুখ খুলেছে বাংলাদেশের তাসনুভা আনান শিশির।

তাসনুভার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

#Me_Too

অক্টোবর ২০১৮

(চাকুরী নাই, বেকার জীবন পথে পথে ঘুরছিলাম বেশ দীর্ঘদিন। এক বড় ভাই জানালো পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের কর্ণধার, শহিদুল ইসলাম বিজু ভাই একজন উদ্যমী নারী খুঁজছেন। তার কাজে সহযোগিতা করার জন্য। বাহ! ভাল তো আমারও জব দরকার। পরদিন সকালে তার অফিস গেলাম দেখা করার জন্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আসলেন। ওনার রুমে নিয়ে গেলেন। পরিচয় কথা শুরু করলেন। আমার জন্য খাবার আনালেন। প্রয়োজনীয় কথা শেষ করে উনি আমাকে গুলশান ব্রাঞ্চ এর দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন। সেখানে যাওয়ার জন্য বললেন। গেলাম। আমাকে বললেন ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেট করতে কিভাবে সেল বাড়ানো যায়, কিন্তু সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা ছিলেন তাদের বলা হলো আমি রবীন্দ্র নাথ নিয়ে গবেষণা করবো, ব্যাপারটা কিছুই বুঝলাম না, আমায় বললেন এক আর এখানে এসে দেখি আর এক। ওনাকে বেতন এর কথা জিজ্ঞেস করলাম। অফিস ডাকলেন। গেলাম।

সেদিন শাড়ি পরেছিলাম, রুমে ঢুকলাম উনি আমাকে বসতে বললেন পাশের সোফায়। কিন্তু পাশে চেয়ার খালি ছিলো। আমার প্রশংসা শুরু করলেন। আমার চোখ সুন্দর, দেখতে সুন্দরী, আমাকে ওনার ভীষণ ভাল লাগে। এরকম আরও নানা ধরনের কথা বার্তা। উঠে বেরিয়ে যাবো তার উপায় নাই দরজা উনি অটো লক করে দিয়েছেন।

তখন কি করব বুঝতে পারছিলাম না। হাত-পা শীতল হয়ে আসছিল। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ওনার সাথে স্বাভাবিক কথা বলার চেষ্টা করছিলাম। বেতন এর কথা জিজ্ঞেস করলাম, উনি বললেন ১০০০০ টাকা আর বাকি ৫০০০ টাকা পারসোনালভাবে দিবেন। কথাটা শুনে মাথার মধ্যে আগুন জ্বলে উঠলো। বিজু ভাই এবার আমার পারসোনাল প্রশ্ন করলেন, কেমন ছেলে পছন্দ? বললাম আপনার মতো মধ্যবয়স্ক নিশ্চয়ই নয়। সে আমার হাত ধরে ফেলেন। আমার আঁকাবাঁকা আঙুল ১০টা নাকি ১০টা পেনিস এর সমান। আমি যেন আর কারো কাছে না যাই, বললাম ভাষা ঠিক করে কথা বলতে, তার নাকি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার মত অবস্থা, উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে জোর করে লিপ কিস করলেন। ছেড়ে দিতে বললাম, ছেড়ে দিলেন কিন্তু দরজা খুললেন না। এবার তার জিপার খুলে পেনিস বের করে বললেন ওনার সাইজ আমার পছন্দ হয় কিনা, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে তিনি ঘটিয়ে ফেললেন এসব ঘটনা, এবার আর পারলাম না এতক্ষণে সে সব বাঁধ ভেঙে ফেলেছেন। বললাম দরজা না খুললে আমি চেঁচাব। আপনি যদি আমায় রেপ করেন তাহলে এমনভাবে করেন জেন আমি মরে যাই আর যদি সেটা না হয় তাহলে আমায় সসম্মানে যেতে দেন।

ইচ্ছা করছিলো লোকটাকে কুত্তার মত পিটাই। কিন্তু যার পরিচয়ে সেখানে গেলাম শুধুমাত্র তার সম্মানের কথা ভেবে চুপ করে হজম করলাম। উনি দেখলাম একটু ভয় পেলেন। তারপর দরজা খুলে দিলেন, বের হয়ে আসলাম।

যেসব  #সেলিব্রেটিরা ভাবছেন আমি নিজে আলোচনায় থাকার জন্য বা সেলিব্রেটি হবার জন্য লিখেছি তাদের উদ্দেশ্য করে বলছি, শিশির জন্মের পর থেকেই তারকা, আমায় দেখার জন্য আশেপাশের সাত গ্রাম থেকে লোকজন এসেছিলো। এরপর স্কুল-কলেজ থিয়েটার নাচের স্কুল, এমন কি আমার প্রেম সবখানেই আমায় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সব সময়, সবখানে সদা বিরাজমান, সুতরাং নতুন করে তারকা হবার কিছু নেই।

এবার #সুশীল সমাজের লোকদের বলছি। উপরে ঘটনাটা এক চুল পরিমাণ মিথ্যা না। কাছের মানুষগুলো বলেছেন লেখার জন্য আর লেখাটার প্রয়োজনীয়তা বলি শুনুন, শুরু থেকেই আপনাদের সাথে চলার জন্য আপনাদের মেইন স্ট্রিমের মানুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজ উন্নয়নে কাজ করব বলেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। আমার কোনো ট্রেডিশনাল জীবনের অভিজ্ঞতা নেই। এরকম হাজারো বিজুদের ছোবলে হারিয়ে গেছে অনেক Transwoman.

বিচার আপনাদের কাছে চাইলে কোনোদিন পাওয়া যাবে না আপনারা বিচার করতে ও পারবেন না। যে সমাজ একজন তনু হত্যার বিচার করতে পারে না সেই সুশীল সমাজ কি করে একজন transwoman এর সম্মান দেবে।

শিশিরের নামের পাশে একটা সাইনবোর্ড ঝুলে আছে, #বেশ্যা, তাই হয়তো কথাগুলো লিখলাম। পূজা অন্বেষারা ভদ্র ঘরের সন্তান ছিলো তাই একজন সুইসাইড করেছে আর একজন ৯ মাস ধরে নিখোঁজ। সভ্য, সুশীল সমাজের কাছে একটাই প্রশ্ন, আর কত দিন চলবে এরকম?

এমন সব অভিযোগের বিষয়ে পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের কর্ণধার শহিদুল ইসলাম বিজু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এ ঘটনা কিভাবে ঘটবে, তাহলে এতো বছরের একটা প্রতিষ্ঠান কিভাবে চলতো।’

তিনি দাবি করেছেন, তাসনুভার অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার্থে বিজু আইনি প্রক্রিয়ায় জাবেন।

তার বিরুদ্ধে আনিতো অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে উত্তর দিবেন বলে জানিয়েছেন।

এফবি/জিজাক/এএসটি