‘অটোরিকশা না দেয়ায় চালক রাশেদকে হত্যা করে হয়’

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

‘অটোরিকশা না দেয়ায় চালক রাশেদকে হত্যা করে হয়’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৮

‘অটোরিকশা না দেয়ায় চালক রাশেদকে হত্যা করে হয়’

রাজধানীর সবুজবাগে চালক মো. রাশেদকে গলা কেটে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন— মো. জাহিদ হাসান অপু (২৫) ও মো. সোলায়মান (১৮)।

তাদের কাছ থেকে রাশেদের অটোরিকশা, মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে সবুজবাগ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল কুদ্দুস ফকির এসব তথ্য জানান।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে খিলগাঁওয়ের তিতাস রোড ও ছোট বটতলা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই খুনিকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি আবদুল কুদ্দুস বলেন, গত ৩১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও বেগুনবাড়ি এলাকা থেকে মো. রাশেদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সবুজবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয়। মামলার তদন্তের এক পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা জাহিদ হাসান অপুকে তিতাস রোড় হতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে রাশেদের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। 

তিনি বলেন, অপুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর খুনি মো. সোলায়মানকে খিলগাঁওয়ের ছোট বটতলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুই খুনির দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছোরাটি। সেই সাথে অটোরিকশার ব্যাটারিটি খিলগাঁওয়ের ইব্রাহিমের গ্যারেজের মিরাজ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়:

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি আবদুল কুদ্দুস বলেন, জাহিদ ও সোলায়মান পেশাদার ছিনতাইকারী। তারা গত ৩০ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে নন্দিপাড়া ব্রিজ থেকে অটোরিকশা চালক রাশেদকে ৪০ টাকা ভাড়ায় মানিকদিয়া কাঠের পুলে যাওয়ার জন্য ঠিক করে। 

তিনি বলেন, রাশেদকে নিয়ে মানিকদিয়া কাঠের পুল যাওয়ার পর সেখানে মাটির ট্রাক এবং লোক সমাগম থাকায় গ্রেফতাররা কৌশল করে অটোরিকশার গতিপথ পরিবর্তন করে। এরপর তারা রাত দেড়টা কি দুইটার দিকে বেগুনবাড়ি এলাকায় গিয়ে পৌঁছায়। জায়গাটা নির্জন এবং জনমানবহীন থাকায় তারা রিকশা থামিয়ে ভাড়া মিটানোর সময় রাশেদের গলায় ধারালো ছোরা ধরে। তখন চালক রাশেদ তার কাছে থাকা সারাদিনের উপার্জিত ৪৩০ টাকা এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দিয়ে দেয়। 

ওসি বলেন, গ্রেফতারা রাশেদকে রিকশা রেখে চলে যেতে বলে। কিন্তু রিকশা দিতে রাজি না হওয়ায় রাশেদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাশেদের গলায় ছোরা চালিয়ে দেয় জাহিদ। পরে উপর্যুপরি বুকের নিচে আঘাত করে রাশেদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর ছোরাটি পাশের জলাশয়ে ফেলে রিকশা নিয়ে সোলায়মান ও জাহিদ পালিয়ে যায়।

পিএসএস/এসবি