সংকটের বেড়াজালে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সংকটের বেড়াজালে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প

ফররুখ বাবু ১২:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

সংকটের বেড়াজালে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প

নানা সংকটের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছে বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি। প্রকল্প ব্যয় বেড়েই চলেছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং মন্ত্রণালয়ের টানাপোড়েন।

ফলে রাজধানীর বিপুল পরিমাণ বর্জ্যকে শোধন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প কবে আলোর মুখ দেখবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত কোম্পানি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ যেসব কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করেছে, তা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মনঃপুত নয়।

ডিএসসিসি’র ভাষ্য, বিদ্যুৎ বিভাগ যেসব কোম্পানির কথা বলছে, তাদের চেয়ে যোগ্য এবং অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান আগেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর রশিদ জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর সভাপতিত্বে শিগগিরই একটি বৈঠক আহ্বান করা হবে। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা থাকবেন। তারাই কোন কোম্পানি দিয়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবেন।

তিনি আরো জানান, ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি অফিস) থেকে জমির মালিকদের আগামী সপ্তাহে নোটিস দেয়া হবে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই জমির মালিকানা বুঝে পাওয়া যাবে।

রাজধানীর মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৭২৫ কোটি টাকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করেছে। জমি অধিগ্রহণে প্রথমে ৫১৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল।

ইতোমধ্যে ডিএসসিসি ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়কে সেই টাকার মধ্যে ৩৪০ কোটি টাকা দিয়েছে। চলতি মাসেই ৯৭ এবং আগামী দু’মাসের মধ্যে আরো ১০০ কোটি টাকা দেয়া হবে।

তবে নতুন আইনে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ তিন গুণ বেড়েছে। ফলে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে, যেটি ওই বৈঠকে আলোচনা করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু, এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলার স্থান হিসেবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল যথেষ্ট নয়। এর ফলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডিএসসিসি সেখানে বড় ধরনের একটি দগ্ধকরণ প্লেস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

এতে দুটি ভাগ থাকবে। একটিতে সাধারণ বর্জ্য এবং অন্যটিতে ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য দগ্ধ করা হবে। ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য পোড়ানোর পর যে নির্যাস থাকবে, তা দিয়ে জ্বালানি ক্যাজে ব্যবহৃত কয়লা জাতীয় দ্রব্য উৎপাদন করা হবে। আর বর্জ্য দগ্ধ করে যে তাপ বা শক্তি পাওয়া যাবে, তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটেও এই প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু, নানা কারণে এখনো এই প্রকল্পের কাজই শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, নগরীর বর্জ্য অপসারণ নির্বিঘ্ন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প একনেক অনুমোদন দিয়েছে। এজন্য ৮১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী ৫০ বছর রাজধানীর বর্জ্য অপসারণ নিয়ে কোনো ঝামেলা হবে না। পাশাপাশি প্রতিদিন ৫/৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলেও জানান তিনি।

এফবি/আইএম