বাংলাদেশ-ভারতে বোমা মিজানের যত জঙ্গি কার্যক্রম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫

বাংলাদেশ-ভারতে বোমা মিজানের যত জঙ্গি কার্যক্রম

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১২:৫৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০১৮

print
বাংলাদেশ-ভারতে বোমা মিজানের যত জঙ্গি কার্যক্রম

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে কাউসার ওরফে বোমা মিজানকে দীর্ঘ চেষ্টার পর গ্রেফতার করতে পেরেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ।

এনআইএ এবং ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো সোমবার কর্নাটকের রামনগর জেলায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ এই জঙ্গিকে গ্রেফতার করে। যাকে ধরতে দশ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

এনআইএর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এনআইএর সদস্যরা মিজানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরকের আলামত ছাড়াও কয়েকটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র পেয়েছে। সে ভারতে জেএমবির শীর্ষ নেতা এবং বুরদোয়ান বিস্ফোরণের মামলা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন মামলার আসামি।

এদিকে, বোমা মিজানের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, তার গ্রেফতার হওয়ার কথা আমরাও শুনেছি। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ থেকে যেভাবে ভারতে যায় মিজান:

বোমা মিজান ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বিস্ফোরক শাখার প্রধান ছিলেন। জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমানের গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন এই মিজান।

২০০৯ সালের ১৫ মে কাফরুলের তালতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে বোমা মিজানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে র‍্যাব তার মিরপুরের বাসায় যায়। তখন বাসার ভেতর থেকে মিজানের স্ত্রী হালিমা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। পরে বাসা থেকে বোমা ও বিস্ফোরকসহ হালিমাকেও গ্রেফতার করে র‍্যাব।

জামালপুর জেলার শেখেরভিটা এলাকার সুজা মিয়ার ছেলে মিজানকে পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল গাজীপুরের কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। তিনি ১৯টি মামলার আসামি। এর মধ্যে ২০০৯ এর ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুর থানার একটি অস্ত্র মামলায় মিজান যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত (৩০ বছর) হন। এ ছাড়া দু’টি মামলায় ছয় বছর করে, একটিতে ১৬ বছর ও আরেকটি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হয় এই শীর্ষ জঙ্গির।

২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর কাশিমপুর কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন, হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব হাসান ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বোমা মিজানকে প্রিজন ভ্যানে ময়মনসিংহের একটি আদালতে নেয়া হচ্ছিল। ময়মনসিংহের ত্রিশালে পৌঁছার পর প্রিজন ভ্যানের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি গুলি ও বোমা ছুঁড়ে ছিনিয়ে তাদেরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। এরপরই ভারতে গিয়ে গা ঢাকা দেয় মিজান।

জেএমবির আদলে নতুন দল গড়ে মিজান:

ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আদলে সেখানে একটি নতুন দল গঠন করেন মিজান। সংগঠনটির নাম দেয়া হয় জামাআতুল মুজাহিদীন ইন্ডিয়া (জেএমআই)।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহ, বর্ধমানসহ ঝাড়খন্ডের পাকুরে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল মিজানের দল। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে মাইন তৈরি করার সময় বিস্ফোরণে দুইজনের প্রাণহানি হয়। এরপরই পশ্চিমবঙ্গে জেএমবির বিষয়ে জানতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এএনআই)।

জেএমবির শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে এক বৈঠকে জেএমআই গঠন করেন। ওই সভায় জেএমআইয়ের প্রধান করা হয় বোমা মিজানকে। তাকে শীর্ষে রেখে জেএমআইয়ের ২২ সদস্যের একটি কোর কমিটিও গঠন করা হয়। এই ২২ জনকে তিন ভাগ করে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য পাঠানো হয় ভারতের চেন্নাইতে।

পশ্চিমবঙ্গে জেএমবির ওপর পুলিশের নজরদারি অব্যাহত থাকায় নিরাপদ জায়গা হিসেবে তারা বেছে নেয় চেন্নাইকে। আর চেন্নাই থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা যুবকদের অপারেশনের জন্য প্রথম পাঠানো হয় বুদ্ধগয়ায়। নিজেদের তৈরি আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমগুলো আরো জানায়, পাকুর থেকে বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা পাঠিয়ে দেওয়া হতো মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে। সেখান থেকে আইইডি তৈরি করে তা পাঠিয়ে দেওয়া হতো বুদ্ধগয়ায় জঙ্গিদের হাতে। সালাউদ্দিনের সংগঠনের সঙ্গে আল-কায়েদা এশিয়া শাখার যোগাযোগ ছিল।

ভারতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থভূমি বুদ্ধগয়ার ৪ নম্বর গেটের কাছে গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে একটি খাবারের দোকানে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই দিনই এলাকায় তল্লাশি করে আরও দুটি আইইডি উদ্ধার করে পুলিশ। বুদ্ধগয়ার ৫ নম্বর গেটের কাছ থেকে আরও প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, বুদ্ধগয়ায় তিব্বতের ধর্মগুরু দালাই লামাকে হত্যার চক্রান্ত করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিশোধ নিতেই জেএমআই সদস্যরা দালাই লামাকে হত্যার ছক কষেছিল।

পিএসএস/এসবি

আরও পড়ুন...
কর্নাটকে লুকিয়ে ছিলেন জেএমবির সেই ‘বোমা মিজান’

 
.


আলোচিত সংবাদ