বাবা-মার পাশে দাফন করা হবে রাজীবকে

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৫

বাবা-মার পাশে দাফন করা হবে রাজীবকে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

print
বাবা-মার পাশে দাফন করা হবে রাজীবকে

জীবনযুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হতে পারলেন না দুই বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাবা-মা হারা ছোট দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেয়া হলো না তার। নির্মম একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল রাজীবের সব স্বপ্ন। হাসাপাতালের বিছানায় শুয়ে টানা ১৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হার মানতে হলো তাকে।

রাজীব হোসেনের দাফন হবে পটুয়াখালীতে তার গ্রামের বাড়িতে।

তার মামা জাহিদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, রাজীবের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) মর্গে নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর রাজীবের মরদেহ পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায় নিজ বাড়িতে নেয়া হবে। জানাজা শেষে সেখানে তার মা-বাবার কবরের পাশে রাজীবকে দাফন করা হবে।

ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস জানান, গতরাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজীবের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে রাজীবকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, আগে থেকেই রাজীবের অবস্থা খারাপ ছিল। গত ১০ এপ্রিল অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। তারপর থেকে আর উন্নতি হয়নি। তার ব্রেইনের আঘাতটা ছিল মারাত্মক।

গত ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন মহাখালী থেকে  সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ করে পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস ওভারটেক করে।

সে সময় বিআরটিসির দোতলা বাসটির পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাতটি বাইরের দিকে সামান্য বেরিয়েছিল। স্বজন পরিবহনের বাসটি বিআরটিসি বাসের গা ঘেঁষে পেরিয়ে যাওয়ার সময় রাজীবের হাতটি কাটা পড়ে। তাকে দ্রুত পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জোড়া লাগাতে পারেননি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢাকায় রাজীব হোসেন যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি মেসে থাকতেন। পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন স্বজনদের সহযোগিতায়। রাজীবের মা-বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজীব সবার বড়। বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায়। রাজীব টিউশনি করতেন এবং চাচা, খালাসহ সবার সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিলেন।

রাজীব হোসেনের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সুস্থ হলে তাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুস্থ হয়ে ওঠার আগেই পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিলেন রাজীব।

পিএসএস-এমআর/এসবি

আরো পড়ুন...
মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন রাজিব
মস্তিষ্কেও আঘাত লেগেছে রাজীবের
রাজীবের চিকিৎসার খরচ বহন করতে বাস মালিকদের নির্দেশ হাইকোর্টের
রাজীবের হাত খোয়ার ঘটনায় দুই বাসচালক গ্রেফতার
‘হাত নেই, খেয়ে আর কি হবে’

 
.



আলোচিত সংবাদ