‘ওয়াসা কর্মকর্তা ২৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন কেন?’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫

‘ওয়াসা কর্মকর্তা ২৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন কেন?’

তাসলিমুল আলম তৌহিদ ১০:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮

‘ওয়াসা কর্মকর্তা ২৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন কেন?’

মিরপুর এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পানির লাইনের অবৈধ সংযোগ বেড়েই চলেছে। কর্তৃপক্ষ অবৈধ সংযোগকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার তাদের যোগসাজশে এই অবৈধ সংযোগগুলো দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত ঢাকা ওয়াসা, মিরপুর অঞ্চল মডস জোন-৪ ও ১০-এর গণশুনানিতে সেবা গ্রহীতারা এসব অভিযোগ করেন। গণশুনানিটি মিরপুর-২ এর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এ অনুষ্ঠিত হয়।

গণশুনানিতে ২০ জনের মতো সেবা গ্রহীতা অংশ নিয়ে মিরপুর অঞ্চলে ঢাকা ওয়াসার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর মধ্যে অনেকে ঢাকা ওয়াসা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়া, অবৈধ সংযোগকারীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং পানি না পাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলেন তারা।

মিরপুরের বড়বাগ এলাকার নজরুল ইসলাম গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, ‘বছরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম চার মাস শীতকালে পানি পাই, পরবর্তী চার মাস (মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন) মেটেই পানি পাই না। এর পরবর্তী চার মাস অপ্রতূল পানি পেয়ে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু আমি না বড়বাগের আরও একাধিক মানুষ আছে। যাদের কী দুরবস্থা বিরাজ করছে তা আপনাদেরকে (দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য) বলে বোঝানো যাবে না। সবাইকে পানি কিনতে হয় নিয়মিত। অন্যথায় চলা মুশকিল।’

তিনি বলেন, ‘বারবার ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করলেও বছরের পর বছর কোনো সমাধানের পথ দেখছি না।'

সবচেয়ে বড় সমস্য উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ‘স্যুয়ারেজ লাইন থেকে পানির অসংখ্য সংযোগ দুষ্কৃতিকারীরা নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদেরকে ওয়াসা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। যদি অবৈধ সংযোগকারীদের নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, তাহলে আমরা প্রকৃত গ্রাহক কিভাবে পানি পাবো।’

তখন এ প্রশ্নের জবাবে ঢাকা ওয়াসা, মডস জোন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অবগত। স্থানীয় প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে আমরা গত সপ্তাহে ২০০ থেকে ২৫০ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। কিন্তু তারপরও আমরা কাজ করছি। আশা করি তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো।’

তখন উপস্থিত সামনে বসা একাধিক গ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, ‘ওয়াসার লোকদের কারণে অবৈধ সংযোগ বাড়ছে।’

অবশ্য অভিযোগটি অস্বীকার করে ঢাকা ওয়াসা, মডস জোন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘স্যার (দুদক কর্মকর্তা) আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবো এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

একইভাবে বড়বাগ এলাকার মারুফ বিল্লাহ পানি না পওয়ার পেছনে অবৈধ সংযোগকে দায়ী করেন।

মিরপুরের পশ্চিম কাজীপাড়ার আমির হোসেন আখন্দ বলেন, ‘আপনাদের অবহেলার কারণে এক মাস ধরে পনি নিয়ে ভোগান্তিতে আছি।’

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে শহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, আমি ওয়াসার কার্যালয়ে গিয়েছিলাম ৪০ হাজার টাকা কিস্তিতে বাকি ছিল বলে। তখন ওয়াসার রাজস্ব কর্মকর্তা কাজী ফখরুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি বলেন, একসাথে আমাকে ২৫ হাজার টাকা দিলে আপনার টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। কেন আমার কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল?

তখন উপস্থিত ওয়াসার কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ তাকে আশ্বস্ত করেন বলেন, ‘আপনার কাছে যে কর্মকর্তা টাকা চেয়েছিল, তার সাথে কথা বলে কেন টাকা চেয়েছিল, তা জানতে চাওয়া হবে।’

গণশুনানি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন দুদকের পরিচালক মো. নাসিম আনোয়ার। তিনি ওয়াসা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য বলেন।

গণশুনানি শেষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আপনারা প্রায় ঢাকা ওয়াসার বিরুদ্ধে ২০ জনের মতো অংশ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলেছেন। আমরা বিষয়গুলো নোট নিয়েছি, এটা নিয়ে আমরা কাজ করবো। সামনে সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযোগের ফলোআপ নেওয়ার চেষ্টা করবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের তথ্য পেলে বা কোনো কর্মকর্তার ঘুষের খবর পেলে আমাদেরকে জানিয়ে দিন। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিব।’

টিএটি/এএল