রোগী নিয়ে প্রতারণা করায় ১২ জনের সাজা

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫

রোগী নিয়ে প্রতারণা করায় ১২ জনের সাজা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৮

রোগী নিয়ে প্রতারণা করায় ১২ জনের সাজা

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পঙ্গু হাসপাতাল চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হতে বাধ্য করতো একটি চক্র।রোগীদের সেই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি করিয়ে সেখানকার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন এসব দালালরা।

বিপরীতে রোগীকে হতে হতো সর্বস্বান্ত। কোনো প্রকার ভালো চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে রোগী নিয়ে আবারও ফিরে আসতেন পঙ্গু হাসপাতালে।

সোমবার এমনই একটি চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আগারগাঁওয়ের পঙ্গু হাসপাতালে এ অভিযান চলে।

র‍্যাব-২ এর পরিচালনায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

অভিযানে রংপুরের গঙ্গাচড়ার পশ্চিম কুড়ি বিশ্ব গ্রামের মৃত কালু সিদ্দিকের ছেলে সিদ্দিক মাহমুদ সিদ্দিক (২৮), ভোলার বোরহানউদ্দিনের সাচরা গ্রামের রফিক শিউলির ছেলে মো. রকিব (১৯), বরিশালের গৌরনদীর পূর্ব হোসনেবাদ গ্রামের এলাহী শেখের ছেলে মোহাম্মদ জনি, বরিশালের কাউনিয়ার হবিনগর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে ইমরান হোসেন (২৪), বরগুনা বেতাগীর মাছুয়াখালী গ্রামের বাবুল মৃধার ছেলে শাওন মৃধা (২৪), চাঁদপুরের মতলবের বদরপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে আয়নাল হক (৪৮), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মৃত চাঁদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ফিরোজ, নীলফামারী জেলার ডোমারের হলহশিয়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ হেলালকে (৪০) দুই মাসের সাজা দেয়া হয়।

শরীয়তপুর জেলার কালকিনির জয়নগর গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে আবুল বাশার (৩৫), শেরে-বাংলানগর সুইপার কলোনীর নজর আলীর ছেলে মোহাম্মদ বিল্লালকে (৪০) তিন মাসের সাজা দেয়া হয়।

জামালপুরের মাদরগঞ্জ বেতাগা গ্রামের মৃত শমসের আলী মণ্ডলের ছেলে সফল আলীকে (৬০) এক মাস এবং টাঙ্গাইলের হালিহাতি লুহুরিয়া গ্রামের মৃত আফজাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে আল মনসুর তালুকদাকে (৩৫) ১৫ দিনের সাজা প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, সংঘবদ্ধ চক্রটি নিটোর (সাবেক পঙ্গু হাসপাতাল) এ চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা নিতে বাধা দিতেন এবং বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যেতেন। এর মাধ্যমে তারা অসহায় রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল, আবার ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো থেকেও টাকা নিচ্ছিল।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযানে ১২ জনকে আটক করে ১৫ দিন থেকে তিন মাস পর্যন্ত সাজা দেয়া হয়েছে। এ চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেনর‍্যাব-২ এর উপ-পরিচালক মেজর মোহাম্মদ আলী, সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কাউছার, সহকারী পুলিশ সুপার মো. অহিদ-উল্লাহ্ সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর ইসলাম প্রমুখ।

পিএসএস/এমএসআই