‘অভিজিৎ হত্যার সময় উপস্থিত ছিল মেজর জিয়া’

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

‘অভিজিৎ হত্যার সময় উপস্থিত ছিল মেজর জিয়া’

প্রীতম সাহা সুদীপ ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮

‘অভিজিৎ হত্যার সময় উপস্থিত ছিল মেজর জিয়া’

বিজ্ঞান মনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সময় আনসার আল ইসলামের প্রধান সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কৃত মেজর জিয়া স্বশরীরে উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ হত্যার তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ উপলক্ষে তদন্তের সবশেষ অবস্থা জানাতে রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিজিৎকে অন্য জায়গায় খুন করার সিদ্ধান্ত থাকলেও সুযোগের অভাবে বইমেলাতেই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন চালায় তারা। আর এই অপারেশনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঘটনার সময় আনসার আল ইসলামের প্রধান মেজর জিয়াসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিজিৎকে খুন করার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল না। মূলত তার লেখালেখির কারণেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিজিৎকে খুন করা হয়।

তিনি বলেন, যেহেতু অভিজিৎ বিদেশে ছিল তাই সে কবে দেশে আসবে তা জানতে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনিটরিং করছিল জঙ্গিরা। তাদের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পরই সার্ভিলেন্স উইং তাকে খুনের পরিকল্পনা করে।

মেজর জিয়া দেশে নয়তো বিদেশে পলাতক

মেজর জিয়ার অবস্থান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, সে পলাতক রয়েছে বলেই আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, কয়েকমাস আগে মেজর জিয়া দেশে ছিল, এখন কোথায় আছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। দেশে থাকলেও জিয়া নিস্ক্রিয় অবস্থায় কোথাও আত্মগোপনে আছে কিংবা বিদেশে পলাতক রয়েছে।

অভিজি হত্যায় গ্রেফতার ১০, অধরা

অভিজিৎ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া ওই ঘটনার তদন্তে এখন পর্যন্ত মেজর জিয়াসহ আরো ৫ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যারা পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের তিন বছর হচ্ছে ২৬ ফেব্রুয়ারি। শুরু থেকে মামলাটি ডিবি তদন্ত করছিল। সে সময় র‌্যাব ও ডিবি মিলে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করে এবং মুকুল রানা নামে একজন ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

প্রায় তিন মাস আগে মামলার তদন্তভার পায় কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এরপর মোজাম্মেল হোসেন সায়মন, আরাফাত ওরফে শামস ওরফে সাজ্জাদ ও আবু সিদ্দিক ওরফে সোহেল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি।

তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী এবং এ পর্যন্ত তদন্তে গ্রেফতার বাকি সাতজনের এখনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

সিটিটিসির হাতে গ্রেফতার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তদন্তে মেজর জিয়াসহ আরো ৫ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ২-১ জনকে গ্রেফতার করা গেলে তদন্তকাজ শেষ হবে এবং আদালতে চার্জশিট দিতে পারব।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, তিনজনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আমরা এ মামলার তদন্তকাজ শেষ করে এনেছি। এখন পর্যন্ত মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি। সনাক্ত হওয়া বাকি ৫ জনের মধ্যে কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও বেশিদিন আর মামলাটি ধরে রাখব না, শিগগির চার্জশিট দিয়ে দিব।

পিএসএস/এসবি
আরও পড়ুন...
অভিজিৎ হত্যা : গ্রেফতারকৃতদের বেশিরভাগেরই সম্পৃক্ততা মেলেনি