দুর্নীতির রাঘব-বোয়ালদের নাম বললেন শিক্ষামন্ত্রীর পিও

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

দুর্নীতির রাঘব-বোয়ালদের নাম বললেন শিক্ষামন্ত্রীর পিও

প্রীতম সাহা সুদীপ ২:২২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮

দুর্নীতির রাঘব-বোয়ালদের নাম বললেন শিক্ষামন্ত্রীর পিও

ঘুষ-বাণিজ্য, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোতালেব হোসেন, মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন ও লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে এমন বেশ কয়েকজনের নাম বেরিয়ে এসেছে। ডিবি পুলিশের একাধিক সূত্র পরিবর্তন ডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া তিনজন আরো বেশ কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। এর মধ্যে রাঘব-বোয়াল রয়েছেন কয়েকজন। তাদের ধরতে এরই মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশে অভিযান শুরু হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পিওসহ ওই তিনজনকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোতালেব, নাসির এবং লেকহেড স্কুলের মালিক খালেদ। রোববার রাতে ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেফতার দেখায়।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ‘ঘুষ-বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ওই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে তোলা হতে পারে।

যে কারণে গ্রেফতার মোতালেব-নাসির

ধর্মীয় উগ্রবাদে অনুপ্রেরণা ও স্বাধীনতাবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানা অভিযোগ ছিল লেকহেড গ্রামার স্কুলের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে গত নভেম্বরে ঢাকার ধানমন্ডি ও গুলশানে অবস্থিত লেকহেড গ্রামার স্কুলের শাখা বন্ধ করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পরে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ করে স্কুলটি চালুর নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

ডিবি সূত্র জানায়, হাইকোর্টে যখন লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক রিট আবেদন করেন তখন শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন টাকা খেয়ে স্কুলটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেন।

সূত্র আরো জানায়, স্কুলের মালিক খালেদ হোসেন মতিনের কাছ থেকে বেশ কিছু কল রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে। সেসব রেকর্ডের সঙ্গে মোতালেব ও নাসিরের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ঘুষ বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অপকর্মে সংশ্লিষ্টতা মিলেছে মন্ত্রণালয়ের এই দুই কর্মকর্তার।

এছাড়া রাজধানীর বসিলা রোডে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের একটি সাততলা বাড়ির খোঁজ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে তিনি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি বানালেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে নাসির উদ্দিনেরও একাধিক ফ্লাট ও সম্পদের খোঁজ পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

খালেদ ও লেকহেড স্কুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা ও জঙ্গিবাদে অর্থ সহায়তার অভিযোগে লেকহেড স্কুলের মালিক মো. খালেদ হাসান মতিনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। ২০০৬ সালে ধানমন্ডির ৬/এ সড়কে প্রতিষ্ঠিত হওয়া লেকহেড গ্রামার স্কুলের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতায় ইন্ধন দেয়ার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। স্কুলের বনানী ও গুলশানে আরো দু’টি শাখা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাকালীন এই স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন জেনিফার আহমেদ, যিনি বাংলাদেশে হিযবুত তাহরীর সংগঠিত করার অন্যতম প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম মাওলার স্ত্রী। জেনিফার নিজেও হিযবুতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এরপর ২০০৯ সালে হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই স্কুল প্রথম আলোচনায় আসে। ওই বছরই এই স্কুল পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব নেন হারুন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কর্ণধার হারুন অর রশিদ ও তার ছেলে মোস্টওয়ান্টেড জঙ্গি হিসেবে পরিচিত রেজওয়ান হারুন।

হারুন বেশিরভাগ সময় লন্ডনে থাকলেও চলতি বছরের ১১ মে সকালে যুক্তরাজ্য থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ঢুকে আত্মগোপন করেন।

সূত্রমতে, রেজওয়ানের লেকহেড গ্রামার স্কুলে আলোচিত যুক্তরাষ্ট্রগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ উড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে গ্রেফতার হওয়া রাজীব করিম, তার ভাই তেহজিম করিম ও তেহজিবের স্ত্রী সিরাত করিম এবং তাদের সহযোগী মাইনুদ্দিন শরীফ শিক্ষক ছিলেন।

২০১০ সালে ইয়মেনে আল-কায়েদাবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হয়েছিলেন তেহজিব করিম। এছাড়া পরিবারসহ সিরিয়ায় চলে যাওয়া মাইনুদ্দিনের ভাই রেজওয়ান শরীফও লেকহেডের শিক্ষক ছিলেন।

পিএসএস/এমএসআই/এসবি