গ্রাম হবে আধুনিক শহর: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গ্রাম হবে আধুনিক শহর: প্রধানমন্ত্রী

ফরিদ আহমেদ, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ৮:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৯

গ্রাম হবে আধুনিক শহর: প্রধানমন্ত্রী

জেন্ডার বৈষম্য হ্রাসে  বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবার উপরে আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে নারী উন্নয়নে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করা সরকারের লক্ষ্য। এজন্য এসডিজি বাস্তবায়ন ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’

বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সর্ববৃহৎ বাজেট জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরকারের বিগত দুই মেয়াদে ১০ বছরের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, তার মাধ্যমে জনগণের মাঝে আমাদের প্রতি আস্থা বেড়েছে। তার প্রতিফলন ঘটেছে গত ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে।’

দেশের বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এবার বাজেটে বেকারত্ব ঘুচাতে স্টার্টআপ ফান্ড সৃষ্টি করা হয়েছে। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।’

কৃষিখাতে সরকারের ভর্তুকি-প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও প্রণোদনা থাকবে। কৃষি ভর্তুকি, ঋণ ও কৃষিপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে প্রণোদনাও থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছর ধারাবাহিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে উচ্চ হার বজায় থাকায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে উন্নীত করার জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা, উন্নত করা, সমৃদ্ধশালী করা এবং স্বাধীনতার সুফল পাওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগে বাইরে গেলে বাংলাদেশকে কেউ চিনতো না। এখন আমাদের সবাই চেনে। এটাই আমাদের বড় পাওয়া।’

ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা ২১ হাজার ১৬৯ মেগাওয়াট। শতভাগ মানুষই বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে।’

গ্রামের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্রাম হবে আধুনিক শহর। একটি আধুনিক শহরের প্রতিটি সুবিধা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন আরও গতি পাবে।’

ব্যাংকগুলোকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেয়ার ব্যাপারে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি, যাতে সুদটা সিঙ্গেল ডিজিটে থাকে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে সুবিধাও দিয়েছি। কিন্তু, অনেক বেসরকারি ব্যাংক সেটা মানেনি। এবার বাজেটে নির্দেশনা দেয়া আছে, এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যাওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। ঋণের সুদ যেন ডাবল ডিজিটে না হয়। তাহলে আমাদের বিনিয়োগ বাড়বে। বেশি আর চক্রবৃদ্ধি আকরে সুদ হতে থাকলে মানুষ আর ব্যবসা করতে পারবে না। এদিকটাতে আমরা বিশেষভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অনেক আইন আমরা সংশোধন করব; সে ব্যবস্থাও নিচ্ছি।’

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অনেক পত্রিকায় দেখেছি ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অনেক বেশি টাকা চায়। শ্রমের মূল্য বেড়ে গেছে। কারণ, তাদের ডিমান্ড বেড়ে গেছে। আজকে বেকার লোকের অভাব আছে বলেই তো মূল্য বেড়েছে। সেটাও একটু বিবেচনা করে দেখতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার বক্তব্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘যাদের মানসিকতা অসুস্থ তাদের কিছুই ভালো লাগে না। সবকিছুতেই তারা কিন্তু খোঁজে। তারা কী গবেষণা করেন আমি জানি না। একটা কিছু বলতে হবে। তাই বলেছে। তারা একদিকে সরকারের সমালোচনা করে, আবার বলে কথা বলতে পারেন না। এটা দ্বিমুখী আচরণ। এটা একটা অসুস্থতা।’

অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুদকারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূইয়া প্রমুখ।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শীর্ষক ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি অসুস্থ থাকায় কিছুটা বাজেট বক্তব্যের পর বাকিটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পড়ে শোনান। এরই ধারাবাহিকতায় এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করলেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে তিনি অর্থমন্ত্রীর সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

এফএ/আইএম

আরও পড়ুন...
বাজেটে বেকারদের জন্য চমক ‘স্টার্টআপ’
সূচনা বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
‘স্টার্টআপ ফান্ডে বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা’
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে হবে বুলেট ট্রেন
পুঁজিবাজারে সুশাসন দেখতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
‘বাজেট নিয়ে ভাল পরামর্শ নেয়া হবে’

 

বাজেট ভাবনা: আরও পড়ুন

আরও