গত বছর সাড়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার: সুজন

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৫

গত বছর সাড়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার: সুজন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:২০ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮

print
গত বছর সাড়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার: সুজন

অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে অর্থ পাচার বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, গত বছর দেশ থেকে প্রায় ৭৬ হাজার ৫৮৫ কোটি পাচার হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুজন আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৮-২০১৯: নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, আমাদের বিরাট পরিমাণে সম্পদ পাচার হয়ে যাচ্ছে। বাজেটে সম্পদ পাচার বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেই। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে।

তিনি বলেন, গত বছরে ৯.১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৬, ৫৮৫ কোটি টাকা) পাচার হয়েছে। একইভাবে ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৬১.৬৩ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

বদিউল আলম বলেন, বর্তমানে নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা, এই অবস্থা থাকলে এই অর্থ পাচারের পরিমাণ আর্ও বেড়ে যাবে। কিন্তু এই পাচার রোধে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।

প্রস্তাবিত বাজেটের সমলোচনা করে তিনি বলেন, এই বাজেট স্বার্থন্বেষী- সুযোগসন্ধানী মহলকে তুষ্ট করা জন্য দেয়া হয়েছে। বাজেটে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আকর্ষণী বা তুষ্ট করার মত কিছুই নেই।

সুজন সম্পাদক বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের কথা বলে থাকি। কিন্তু বৈষম্য দূরীকরণে বাজেটে তেমন কোনো আলামত নেই। বরং বাজেটে একদল স্বার্থান্বেষী মহলকে লুটেপুটে নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে করমুক্ত সীমা আড়াই লাখ টাকা রাখা হয়েছে। আড়াই লাখ টাকা কিন্তু বেশি না। ফলে নিন্ম-মধ্যবিত্ত মানুষ করের মধ্যে চলে আসছে। তাদের কাছ থেকে কর আদায় করা হচ্ছে, অথচ ব্যাংকিং খাতকে যারা ডোবাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং তাদেরকে উল্টো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। কমানো হচ্ছে ব্যাংকিং খাতে ট্যাক্স হার।

বদিউল আলম বলেন, ব্যাংকিং খাতে ট্যাক্স না কমিয়ে করপোরেট সেক্টরে যদি ট্যাক্স কমানো হত, সেক্ষেত্রে করপোরেট সেক্টরে সম্ভবনাময়ী সেক্টরে পরিণত হতো।

তিনি বলেন, বিশ্বে যখন প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। সেখানে আমাদের বাজেটে প্রতিনিয়ত বরাদ্দে কমতেই আছে, এটা আমাদের জন্য অশানি সংকেত।

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল ১৪.৩ শতাংশ আর ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে ১২.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত অর্থ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে ১১.৪১ শতাংশ। প্রতিনিয়ত বরাদ্দ কমতেই আছে, এর দ্বারা কী বার্তা দিচ্ছে? আর তাছাড়া বরাদ্দের অধিকাংশ টাকা যাবে অবকাঠমো খাতে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা থাকলেও আমাদের দেশে বরাদ্দ হচ্ছে মাত্র ০.৯২ শতাংশ। এটা হতাশার।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা আফিম খেয়েছি, তাই কোনো প্রতিবাদ হয় না। অথচ আমরা বাঙালি জাতি প্রতিবাদী জাতি ছিলাম। এখন কেন কোনো প্রতিবাদ হচ্ছে না? এত বড় বাজেট হয়ে গেল ঠিক না বেঠিক কেউ কিছুই বলে না।’

সংসদে বাজেটের উপর সঠিক আলোচনা হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে কি আলোচনা হয়, আমরা সবাই জানি। সংসদ সদস্যরা বাজেট আলোচনায় উঠে দলের নেতাদের প্রশংসা শেষে বলেন, বাড়ির পাশে একটা ব্রিজ দরকার। এটা বলেই তাদের আলোচনা শেষ করে। এই বাজেট আলোচনা দিয়ে কিভাবে আমরা এগিয়ে যাব।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

টিএটি/এমএসআই

 
.



আলোচিত সংবাদ