‘ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কমিশন গঠন করছি না’

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

‘ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কমিশন গঠন করছি না’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:০১ অপরাহ্ণ, জুন ০৮, ২০১৮

print
‘ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কমিশন গঠন করছি না’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত বলেছেন, একটা সময় সারাবিশ্ব মনে করত বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর একটাই কাজ। সেটা হলো ভিক্ষা করা। কারণ সে সময় (৮০ এর দশকে) বাজেটের পুরো অর্থই ছিল বিদেশি সহায়তা নির্ভর। ভিক্ষাবৃত্তির এই প্রবণতা কয়েক বছর ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টেছে। এখন আর আমি ভিক্ষুক অর্থমন্ত্রী নই। বাংলাদেশও ভিক্ষুক দেশ নয়। বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুঁড়ি নয়।

শুক্রবার বিকেলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু,  প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান,  প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটকে বাস্তবায়নযোগ্য। বছর শেষে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ঘাটতি থাকতে পারে।

তিনি বলেন, বাজেটে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও সহায়তার জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। তবে আমার মনে হয় পুরো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংস্থা রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা করছে। চলতি বছরও রোহিঙ্গাদের পেছনে সরকারকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ব্যাংকিংখাত নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে। আমি বলেছিলাম এখাতের সংস্কারে কমিশন গঠন করবো। কিন্তু এখন বলছি ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কোনো কমিশন গঠন করছি না। তবে কমিশন গঠনের জন্য সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করেছি। পরবর্তী সরকারের কাছে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র দিয়ে যাব। তারা এটা যেভাবে ভাল মনে করে করবেন।

তিনি বলেন, আমার সব বাজেটই নির্বাচনী বাজেট। কারণ আমি একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, তাই বাজেট নির্বাচনী হবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাদের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

সীমিত সম্পদের বাস্তবসম্মত ব্যবহারের কারণে বিনিয়োগ কম হলেও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদহার আগামী মাসেই সমন্বয় করা হবে। সাধারণত দুই তিন বছর পরপরই আমরা সুদহার সমন্বয় করি। কিন্তু এবার একটু দেরি হয়ে গেছে। তাই এবার বাজেটের পরই এটা সমন্বয় করব।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনতে ব্যাংকিং খাতকে একটু বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

তবে সুদহার না কমালে ব্যাংকিংখাতেকে দেওয়া সুবিধা প্রত্যাহার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু বলেননি।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

এফএ/এসবি

 
.



আলোচিত সংবাদ