এমপি মিমির মসনদ কতটা মসৃণ?

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এমপি মিমির মসনদ কতটা মসৃণ?

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

এমপি মিমির মসনদ কতটা মসৃণ?

কলকাতার হালের দুই গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী ও নুসরাত জাহান। একই সঙ্গে তারা দুজন সংসদ সদস্য হয়েছেন। রাজনীতির মঞ্চে প্রথম দিকের মিষ্টি সময় পেরিয়ে এখন তাদের পারফরমেন্স বিচারের সময়।

বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে, এমপি হওয়ার পর মিমি চক্রবর্তী অনেকটাই ম্রিয়মাণ। নির্বাচনে জেতার পর মিমি গিয়েছিলেন নুসরাতের বিয়েতে। সেখানে তিনি কনে পক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তারপর থেকে মিমি অন্তরালে এবং এখন তার হাতে কোনো ছবিও নেই।

অনেকই বলছেন, রাজনীতির মঞ্চে মিমিকে খুঁজতে হচ্ছে আতশি কাচ দিয়ে। পুজোর কার্নিভাল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কালীপুজো থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠান কোথাও দেখা যায়নি মিমিকে। তাহলে কোথায় তিনি? এমনকি, অরূপ বিশ্বাস মহা আড়ম্বরে ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান করে বোনদের কাছ থেকে তিনি ফোঁটা নেন। সেখানে নায়িকা মিমিকে দেখা যায় মাত্র এক ঝলক।

নিজের কেন্দ্রে নিয়মিত যাওয়া থেকে শুরু করে রাজনীতির সম্প্রতি এমপি-বিধায়কদের তৃণমূল ভবনে মমতা, সেখানেও ছিলেন না মিমি।

রাজনীতির মঞ্চে এ ধরনের গেটটুগেদার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। উপস্থিতি-অনুপস্থিতি অনেক জটিল বার্তা দেয়। কে দলীয় নেতৃত্বের কাছাকাছি এলো বা কার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ল... এমন কত হিসেব তো এখান থেকেই পরিষ্কার হয়।

মিমির অনুপস্থিতি নিয়ে কথা উঠছে বিভিন্ন মহলে। কেউ সোজাসুজি কিছু না বললেও, কথার মারপ্যাঁচে অনেকেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন, এমপি হয়ে রাতারাতি বদলে গিয়েছেন নায়িকা। এখানে উঠে আসছে এমপি অভিনেত্রী নুসরাতের সাথে মিমির তুলনা। অবশ্য এর পেছনে কারণও রয়েছে। একদিকে রাজনীতিসহ বিভিন্ন কাজেই নুসরাতের ভূমিকা রয়েছে। তারপরও নুসরাত ‘অসুর’ এর শুটিং সেরে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সবার নজর কেড়েছেন। মিমি কি ততোটাই সক্রিয়?

সিনেমায় অভিনয় না করলেও মিমি নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন। মিউজিক ভিডিও করেছেন। সেগুলো প্রশংসাও পেয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসা প্রশ্ন নিয়ে কী বলছেন মিমি?

মিমি বলেন, কার্নিভালে আমি কোনো দিনই যাই না। দিদির বাড়ির কালীপুজোয় অসুস্থতার কারণে যেতে পারিনি। এমপিদের মিটিংয়ের দিনও আমি অসুস্থ ছিলাম। আমি নিজে দিদিকে মেসেজ করে জানিয়েছি, যেতে পারব না। সে খবরটা বোধহয় অনেকেই পাননি। আর যাদবপুরের লোকজনকে জিজ্ঞেস করুন, আমি কী কাজ করেছি। প্রত্যেক দিন অফিসে যাই। যে যা সমস্যা নিয়ে আসে, তা শুনি। সমাধানের চেষ্টা করি। নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করি। নানা জায়গায় বিজয়া সম্মিলনী করেছি। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের পরের দিনই, আমার যে এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম।

তবে  ‘এমপি হয়ে বদলে গিয়েছে’— এ ধরনের কথা বেশি শোনা যাচ্ছে, শুনে বেশ জোর গলায় বলেন, ‘আমি কাউকে পাত্তা দিচ্ছি না, এ কথাটায় ভীষণ আঘাত পেয়েছি।  ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো সিনেমার কাজ রাখিনি, যাতে এদিকে সময় দিতে পারি। আমি ঠিক মতো কাজ করার চেষ্টা করছি বলেই কি এই কথাগুলো উঠছে? মানুষের জন্য কাজ করব বলে রাজনীতিতে এসেছি। আমার আলাদা করে কিছু পাওয়ার নেই। তা সত্ত্বেও এসব নেতিবাচক কথা শুনতে হচ্ছে— এগুলো খুব খারাপ লাগে। অরূপদার (বিশ্বাস) সঙ্গে আমার নিয়মিত ফোনে কথা হয়। উনি আমার অভিভাবকের মতো।’

কিছু প্রশ্ন উঠবে, আবার তা মিলিয়েও যাবে। সময়ের কষ্টিপাথরে বিচারশেষে টিকে থাকবে শুধু সেটুকুই, যেটুকু সত্য...।

এসএস

 

বলিউড ও অন্যান্য: আরও পড়ুন

আরও