ভালবেসে প্রতারিত, তাই ৪৭-এ সিঙ্গল টাবু

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ভালবেসে প্রতারিত, তাই ৪৭-এ সিঙ্গল টাবু

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

ভালবেসে প্রতারিত, তাই ৪৭-এ সিঙ্গল টাবু

তাবাসসুম ফতিমা হাসমি। বলিউড তাকে অবশ্য টাবু নামেই চেনে। মোহময়ী, বলিউডের অন্যতম সেরা এই অভিনেত্রীর বর্তমান বয়স ৪৭। তবে আপাতত তিনি বিয়ের কথা ভাবছেন না। নিজেকে হ্যাপিলি সিঙ্গল বলে থাকেন। কিন্তু এখনো কেনো সিঙ্গল বলিউডের অন্যতম প্রতিভাবান এই অভিনেত্রী?

টাবুর সিঙ্গল থাকার পিছনে অনেকগুলো কাহিনি লুকিয়ে রয়েছে। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে তার জীবন। ভালবেসে বারবার প্রতারিত হয়েছেন তিনি।

১৯৭০ সালে এক হায়দরাবাদে মুসলিম পরিবারে জন্ম টাবুর। বাবা জামাল হাসমি এবং মা রিজওয়ানা। তার জন্মের পরপরই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এটাই ছিল তার জীবনের প্রথম বড় আঘাত। খুব ছোট হওয়ায় বাবা-মার বিচ্ছেদটা হয়তো সে সময় অনুভব করতে পারেননি তিনি। কিন্তু বড় হওয়ায় সঙ্গে ক্রমশ সেই ব্যথা অনুভব করেছেন।

টাবু মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। মা, দাদু, দিদিমা সবাই খুব শিক্ষিত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে তিনি মুম্বই চলে আসেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনার জন্য। দু’বছর সেখানে পড়াশোনা করেন তিনি।

কিন্তু বরাবরই টাবুর অভিনয়ের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। অভিনেত্রী শাবানা আজমির আত্মীয় হওয়ায় সেই আগ্রহ আরো অনেক গুণ বেড়ে গিয়েছিল।

অভিনেত্রী তানভি আজমি, বাবা আজমি এবং অভিনেত্রী ফারহা নাজের সঙ্গেও তার পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। সে কারণে বরাবরই অভিনয় জগতের সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়ে গিয়েছিল।

মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকেই অভিনয় শুরু করেন টাবু। ১৯৮০ সালে ‘বাজার’ ছবিতে তাকে খুব ছোট ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। তারপর ১৯৮৫ সালে ‘হম নওজওয়ান’ ছবিতে দেবানন্দের মেয়ের ভূমিকায় তাকে দেখা গিয়েছিল।

টাবু তেলুগু, তামিল, বাংলা, হিন্দি— বিভিন্ন ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন। তিনি বহুভাষী। তেলুগু, উর্দু, হিন্দি, বাংলা, মরাঠি, তামিল, মালয়ালম, ইংরাজি, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন তিনি।

কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে অনেক আঘাত সহ্য করতে হয়েছিল তাকে। টাবু  অবশ্য বরাবারই ভীষণ খোলামেলা। নিজের ঘাত-প্রতিঘাতগুলো কখনো লুকিয়ে রাখেননি তিনি। বরং তার লাভ লাইফ সম্বন্ধে ভীষণ সোজাসাপ্টা জবাব দিয়েছেন তিনি।

তার জীবনে প্রথম পুরুষ ছিলেন সঞ্জয় কপূর। ‘প্রেম’ ছবিতে অভিনয় করা থেকেই তাদের প্রেমের সূত্রপাত। টাবু সম্পর্কটাকে নিযে ভীষণ সিরিয়াস ছিলেন। কিন্তু অনেক দিন ডেট করার পর কোনো অজ্ঞাত কারণে টাবুর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে ফেলেন সঞ্জয়।

‘প্রেম’ ছবিটা মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯৫ সালে। আর তার দু’বছর পরই গার্লফ্রেন্ড মাহিপ সাঁধুকে বিয়ে করে নেন সঞ্জয়। অনেকেই মনে করেন, মাহিপের জন্যই টাবুর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে ফেলেছিলেন সঞ্জয়। আজও টাবু  আর সঞ্জয়ের মধ্যে কথাবার্তা বন্ধ।

সঞ্জয় কপূরের সঙ্গে বিচ্ছেদের শোক ভুলতে টাবুর বেশ কিছু দিন লেগেছিল। কিন্তু মানসিকভাবে দৃঢ় টাবু এই আঘাত কাটিয়ে ওঠেন, কেরিয়ারে মনোনিবেশ করেন। এরপরই তার জীবনে দ্বিতীয় পুরুষের প্রবেশ। তিনি পরিচালক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা।

১৯৯২ সালে অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীকে বিয়ে করেছিলেন সাজিদ। কিন্তু বিয়ের ১০ মাসের মধ্যেই দিব্যার মৃত্যু হয়। স্ত্রীর মৃত্যু শোক সবে কাটিয়ে উঠছিলেন সাজিদ। টাবুর সঙ্গে পরিচয় দিব্যাকে ভুলতে তাকে সাহায্য করেছিল। কিন্তু শেষমেশ সাজিদও আজীবন টাবুর সঙ্গ দেননি। টাবুর পরিবর্তে ওয়ার্দা খান নামে এক সাংবাদিককে ২০০০ সালে বিয়ে করেন সাজিদ।

টাবুর ব্যক্তিগত জীবনে এটা ছিল দ্বিতীয় আঘাত। মনের জোরে এর থেকেও বেরিয়ে এসেছেন টাবু। তবে তৃতীয় আঘাতটা ছিল সবচেয়ে জোরদার। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, বিশ্বাসঘাতকতার যন্ত্রণা একসময় টাবুকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছিল।

টাবুর জীবনে তৃতীয় পুরুষ, দক্ষিণী সুপারস্টার নাগার্জুন। টাবুর সঙ্গে ডেট করার সময়ই নাগার্জুন বিবাহিত ছিলেন। টাবু সেটা জানতেনও। তাই তারা গোপনে ডেট করতেন। এভাবে ১০ বছর তাদের সম্পর্ক থাকে। যা সময়ের সঙ্গে ক্রমশ গভীর হয়। এতদিন টাবু আশা করে ছিলেন যে তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নাগার্জুন রাখবেন।

কিন্তু শেষমেশ তা হয়নি। ১০ বছর পর টাবু উপলব্ধি করেন যে, নাগার্জুন তার স্ত্রীকে ছেড়ে তার কাছে আসবেন না। এতদিন তাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিযে গিয়েছেন। এরপর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেন টাবু। ১০ বছরের এই সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসেন।

এখন তিনি হ্যাপিলি সিঙ্গল। নিজেকে এইভাবেই দেখতে পছন্দ করেন টাবু। খুব বেছে সিনেমা করেন। নতুন করে সম্পর্কে জড়ানোর এখনই কোনো ইচ্ছা নেই, জানিয়েছেন নিজেই।

ইসি/

 

বলিউড ও অন্যান্য: আরও পড়ুন

আরও