'ব্রেইন টিউমার'-এ আক্রান্ত 'সুপার থার্টি'র জনক আনন্দ কুমার

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

'ব্রেইন টিউমার'-এ আক্রান্ত 'সুপার থার্টি'র জনক আনন্দ কুমার

পরিবর্তন ডেস্ক: ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

'ব্রেইন টিউমার'-এ আক্রান্ত 'সুপার থার্টি'র জনক আনন্দ কুমার

হৃত্বিক অভিনীত ছবি 'সুপার ৩০' মুক্তি পেতে আর মাত্র একদিন বাকি। এই ছবিতে গণিতবিদ আনন্দ কুমারের ভূমিকায় দেখা যাবে হৃত্বিককে। তার জীবনের ঘটনা অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে এই ছবিটি। এরই মাঝে তার জীবনের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন আনন্দ কুমার।

ভারতের জিনিউজ পত্রিকার খবরে বলা হয়, গণিতবিদ আনন্দ কুমার জানিয়েছেন তিনি অ্যাকাউস্টিক নিউরোমায় আক্রান্ত, অর্থাৎ কান থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত যে স্নায়ু রয়েছে তাতে একটি টিউমার হয়েছে আনন্দের। তাই আনন্দ নিজেই চেয়েছিলেন, বেঁচে থাকতে নিজের কাজের সাক্ষী থাকতে। চেয়েছিলেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছবিটি শেষ হোক।

নিজের স্বাস্থ্যের কথা বলতে গিয়ে আনন্দ বলেন, ‘ছবির লেখক চেয়েছিলেন আমি যত তাড়াতাড়ি পারি যেন এই ছবির জন্য সম্মতি দিয়ে দিই। জীবন-মৃত্যুর কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই বেঁচে থাকতে থাকতে আমার বায়োপিকটা দেখতে চাইছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে আমার অবস্থা এতই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে আমি ডান কান দিয়ে শুনতেই পাচ্ছিলাম না। পাটনায় বেশ কিছু জায়গায় চিকিৎসাও করাই। তারপর কয়েকটি পরীক্ষা করার পর আমি জানতে পারি আমার ডান কানের ৮০-৯০ শতাংশ শোনার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’

আনন্দ তারপর দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। ‘সেখানে ডাক্তাররা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তারপর জানান আমার কানে কোনও সমস্যা নেই। কান থেকে যে স্নায়ু মস্তিষ্কে গিয়েছে তাতে একটি টিউমার হয়েছে। এই কথাটা শোনার পরই আমি জ্ঞান হারাই। এখন আমি মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালের বিখ্যাত নিউরোসার্জেন ডাক্তার বিকে মিশ্রার তত্ত্বাবধানে রয়েছি।’

আনন্দের মতে হৃতিক ছাড়া আর কোনও অভিনেতা তার চরিত্রটি পর্দায় সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন না। ‘আমি ১৩ বার স্ক্রিপ্ট পড়েছিলাম। কারণ আমি চেয়েছিলাম আমার যাত্রাটা ঠিকভাবে ছবিতে দেখানো হোক।’ হৃতিকের সম্বন্ধে তিনি বলেন, ‘হৃত্বিক একজন খুব বড় মাপের অভিনেতা। আমারা প্রতিদিনই স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করতাম। আমার মনে আছে তিনি ১৫০ ঘন্টার  একটি ভিডিও বানিয়েছিলেন। আমার রোজকার জীবন, পাটনায় মানুষের সঙ্গে আমি কীভাবে কথা বলি, আমার ছাত্রদের নিয়ে বাইরে বের হওয়া এইসব নিয়ে। সেটা দেখে তিনি অনুশীলন করতেন। একবার আমি তার বাড়ি গিয়েছিলাম স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করতে। কথা বলতে বলতে হৃতিক খুবই মশগুল হয়ে পড়েন। যখন তিনি অ্যপার্টমেন্ট থেকে নীচে নামেন আমাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য তখন খেয়াল হয় যে তিনি জুতা না পড়েই নেমে গিয়েছেন। এর থেকে প্রমাণ হয় হৃতিক নিজের কাজ নিয়ে কতটা ভাবেন।’

'সুপার ৩০' ছবিটি গণিতজ্ঞ আনন্দ কুমারের জীবন নিয়ে তৈরি। তিনি ধনী ছাত্রদের পড়ানো ছেড়ে দিয়েছিলেন গরীব ছাত্রদের পড়াবেন বলে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন বিকাশ বহেল। ১২ জুলাই মুক্তি পাবে 'সুপার ৩০'।

জিজাক/

 

বলিউড ও অন্যান্য: আরও পড়ুন

আরও