‘আমি মোদী নই, তাই আমার বায়োপিকেরও দরকার নেই’

ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

‘আমি মোদী নই, তাই আমার বায়োপিকেরও দরকার নেই’

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

‘আমি মোদী নই, তাই আমার বায়োপিকেরও দরকার নেই’

ভারতে ভোটের আগেই বায়োপিক নিয়ে সাফাই মমতার। বায়োপিকে খুশি হওয়া তো দূরস্ত, বরং বেজায় চটেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও একহাত নিয়েছেন। তিনি মোদী নন, তাই তার বায়োপিকেরও প্রয়োজন নেই, সপাটে এ কথাই বলেন তিনি। বুধবারই নির্বাচন কমিশনের রোষানলে পড়েছিল ‘বাঘিনী’। ভোটের মরশুমে মোদীর বায়োপিকের মতো তথাকথিত মমতার বায়োপিক নিয়েও উঠেছে একগুচ্ছ আপত্তি। কথা ছিল, ৩ মে মুক্তি পাবে ছবিটি। কিন্তু তার আগেই ছবির ট্রেলার নিয়ে আপত্তি উঠল নির্বাচন কমিশনের তরফে। তাই ছবি মুক্তির পরিকল্পনা আপাতত নেই। মঙ্গলবার কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ইউটিউব-সহ বাকি যে সব জায়গায় রয়েছে ছবির ট্রেলার, অবিলম্বে তার সবটাই তুলে নিতে হবে। আর এত সব জল্পনার মধ্যে ঘি ঢালল এই ছবি ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য।

বুধবার নির্বাচন কমিশন আপত্তি জানানোর পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের টুইটারে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দেন। তার বক্তব্য, যে বায়োপিক নিয়ে এত চর্চা হচ্ছে, সেই ছবির সঙ্গে তার কোনও লেনদেন নেই। ‘কারা এসব গুজব ছড়াচ্ছে! আমি নরেন্দ্র মোদী নই, তাই আমার বায়োপিকের কোনও দরকার নেই,’ টুইটারে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে এমনটাই লেখেন মমতা। শুধু তাই নয়, মানহানি মামলার হুমকিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব গুজব রটিয়ে আমাকে বাধ্য করবেন না মানহানির মামলা করতে।’

‘বাঘিনী-বেঙ্গল টাইগ্রেস’ ছবির ট্রেলার দেখেই আঁচ পাওয়া গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটবেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত পুরো জার্নিটা তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো সাড়া জাগানো ঘটনাও রয়েছে। এমনকী, মমতার রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সেই বিখ্যাত ঘটনার ঝলকও মিলেছে ছবির ট্রেলারে। অন্যদিকে, নির্মাতাদের তরফে দাবি করা হয়েছে এই ছবি একেবারেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বায়োপিক নয়। বরং, তার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। কিন্তু একথা মানতে রাজি নয় বিরোধীরা। সিপিএম ও বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ‘বাঘিনী’ ছবিটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন অবলম্বনেই তৈরি। ফলে ভোটের মরশুমে এই ছবি বা ট্রেলার ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। তাই ছবি মুক্তি পিছোতে হবে, নতুবা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের হতে পারে।

জিজাক/