নওয়াজউদ্দিনের জীবন যুদ্ধই তাকে ‘মান্টো’ বানিয়েছে!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৫

নওয়াজউদ্দিনের জীবন যুদ্ধই তাকে ‘মান্টো’ বানিয়েছে!

পরিবর্তন ডেস্ক ২:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

নওয়াজউদ্দিনের জীবন যুদ্ধই তাকে ‘মান্টো’ বানিয়েছে!

‘মান্টো’। নন্দিতা দাস পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর। প্রথম যখন ‘মান্টো’ হিসেবে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির লুক সামনে এসেছিল, তখন থেকেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল প্রবল ছিল। প্রভা খৈতান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ছবি মুক্তির আগে বৃহস্পতিবার কলকাতায় পাঁচতারা হোটেলে প্রচারে এসে মুখোমুখি হলেন নন্দিতা এবং নওয়াজ। আনন্দ বাজারকে দেয়া সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায় বিস্তারিত। আসুন তাহলে জেনে নেই নওয়াজউদ্দিন কীভাবে মান্টো হলো।

‘মান্টো’ এই নামটার সঙ্গে কতজন দর্শক পরিচিত বলে আপনার মনে হয়?

নন্দিতা: অনেকেই ‘মান্টো’ পড়েছেন। আবার হয়তো অনেকেই পড়েননি। তবে এখন আর ‘মান্টো’ অচেনা নাম নয়।

যারা পড়েননি, তারা ছবিটা দেখার উত্সাহ পাবেন কি?

নন্দিতা: নিশ্চয়ই। যারা সৎ এবং নির্ভীক, যারা সৎ এবং নির্ভীক হতে চান। যারা পড়েছেন, যারা পড়েননি, এটা সবার ছবি।

সত্যিই কি সব দর্শক ছবিটা বুঝতে পারবেন? ইজ ইট আ মাস অর ক্লাস ফিল্ম?

নন্দিতা: দেখুন, আমি এই ডিভিশনেই বিশ্বাসই করি না। একটা ঘটনা বলি, কাস্ট অ্যান্ড ক্রুয়ের জন্য ছবিটার একটা স্ক্রিনিং হয়েছিল মুম্বইতে। সেখানে আমার ড্রাইভার ছিল। ওকে বলেছিলাম, তোমার সিনেমাটা দেখার একটাই শর্ত। যেমন লাগবে, সেটা সত্যি বলতে হবে। ও সিনেমা দেখে বেরিয়ে বলল, দিদি, তখনও সত্যি বলাটা কতো কঠিন ছিল, আজও সত্যি বলাটা কঠিন। সচ্চে আদমির কি কোনো জায়গা নেই? তাদের কি সব সময় সমস্যায় পড়তে হবে? ও কিন্তু এটা ভেবেছে। ও কিন্তু মান্টো পড়েনি। তো, আমার মনে হয় এটা আমাদের অ্যারোগেন্স, এটা আমরা বুঝব, বাকিরা বুঝবে না। এটা আমরা ভাবি। কিন্তু ‘মান্টো’ সবার ছবি। নিশ ফিল্ম বা ফেস্টিভ্যাল ফিল্ম বলে আলাদা কিছু হয় বলে আমি বিশ্বাস করিনা। আমাদের অডিয়েন্সকে আরো বিশ্বাস করতে হবে। যদি ভালো ছবি হয়, সবাই দেখবে। নিজের মতো করে তার মানে বুঝে নেবে।

নওয়াজ, যখন ‘মান্টো’র চরিত্র পেলেন, কী মনে হয়েছিল?

নওয়াজ: আমার মনে হয়েছিল, ‘মান্টো’ খুব সেনসেবল ক্যারেক্টার। আমার ফিলসফির সঙ্গে ‘মান্টো’কে মেলাতে পেরেছি।

কতটা কঠিন মনে হয়েছিল?

নওয়াজ: কঠিন তো ছিলই। ‘মান্টো’র সততা দেখানো কঠিন ছিল। কতটা সততা দেখাতে পারব, সেটাই চ্যালেঞ্জ ছিল। একটুও ডিজঅনেস্ট হলেই সেটা মুশকিল হত।

নন্দিতা, কতটা হেল্প করেছে?

নওয়াজ: ওহ…! ও তো পাঁচ-ছ’বছর ধরে রিসার্চ করেছে ‘মান্টো’র ওপর। শুটিং শুরুর আগে আমরা ওয়ার্কশপ করেছিলাম। তখন তো ও লেডি মান্টো হয়ে গিয়েছিল (হা হা হা…)। ফলে আমার পক্ষে, আমাদের সব অভিনেতাদের পক্ষেই খুব সুবিধে হয়েছিল। আমার মনে হয়েছিল, মান্টো যা লিখেছে, আমিও তো এটাই বলতে চেয়েছি। এটাই তো আমার ভাবনা। ফলে পারফরম্যান্সের যে মহল ছিল, ক্যারেক্টারকে প্যাম্পার করার যে ব্যাপার ছিল— সেখানে ডিরেক্টর খুবই হেল্প করেছে।

নন্দিতা, আপনার বাবা অর্থাৎ চিত্রশিল্পী তথা ভাস্কর্যশিল্পী যতীন দাসের সঙ্গে মান্টোর কোনো মিল খুঁজে পেয়েছেন কখনো?

নন্দিতা: পেয়েছি। বাবা ওরকম বলেই হয়তো ‘মান্টো’কে বুঝতে সুবিধে হয়েছে। কোন ছবির কী মানে, সেটা জানতে চাইলে বাবা সব সময় বলে, তুমি যেটা বুঝেছ, সেটাই তোমার মানে। আসলে মান্টো যে ভাবে কথা বলত, সেটার সঙ্গে আমি নিজেকে মেলাতে পারি। কেরিয়ার, প্রফেশন, সাকসেস এই শব্দগুলো শুনে কিন্তু আমরা বড় হইনি। কিন্তু এখন এগুলো কমন ল্যাঙ্গুয়েজ, আমাদের সময় কিন্তু কোনও প্রেশার ছিল না।

আর ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে মান্টোর মিল খুঁজেছেন?

নন্দিতা: ভেবেছি। এটা নিয়েও ভেবেছি। ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে কিছু মিল তো পেয়েছি বটেই। কিছুটা ভায়োলেন্স, ভয়ঙ্কর সেনসিটিভ দু’জনেই, কিছুটা মদ খাওয়া…। আসলে ফ্রি স্পিরিট, কনভিকশন, নির্ভীকতা নিয়ে মান্টো একটা আইডিয়া। আমি মান্টোর সেই চিন্তা ভাবনাকে ইন্ট্রোডিউস করতে চেয়েছি। রাইটার হিসেবে মান্টোকে ইন্ট্রোডিউস করতে চাইনি কিন্তু। আমি বিশ্বাস করি, মান্টো আজও খুবই প্রাসঙ্গিক। সে জন্যই করেছি ছবিটা।

নওয়াজকে বেছে নিলেন কেন?

নন্দিতা: ওর ডেপথ, ওর রেঞ্জ, ও এত ভাল অ্যাক্টর…। কেনো ওর কথা ভাবব না বলুন তো? নওয়াজের জীবনের স্ট্রাগল তো ওর চোখে ধরা পড়ে। সেই স্ট্রাগলটা আমার ছবিতেও দরকার ছিল। মাত্র দু’ঘন্টায় এত কনট্রাডিকশন, এত শেডস দেখানোটা সহজ ছিল না। ফলে একজন ভাল অভিনেতা, তার থেকে একজন ভাল মানুষ আমার দরকার ছিল।

‘মান্টো’য় নওয়াজ এবং রসিকা।

নওয়াজ, আপনার কেরিয়ারেও তো একেবারে অন্য রকমের কাজ এটা?

নওয়াজ: দেখুন, বলিউড হিরো ছাড়া আর সব ক্যারেক্টার করেছি আমি। বলিউড হিরোর ক্যারেক্টার করতেও চাই না। আমি বাংলা ছবি দেখে বড় হয়েছি। সেখানে কত শেখার জায়গা। আমি চেষ্টা করি, হিরো ছাড়া আর যে কোনও ক্যারেক্টার হোক আমার চলবে। আমি খুশি হই। আমি তিনটে ছবিতে গ্যাংস্টারের রোল করেছি। এই যদি হিরোর রোল করতাম, আপনি কিন্তু আজ এই প্রশ্নটা করতেন না।

ঠিকই। যেহেতু পিরিয়ড ফিল্ম, আর্ট ডিরেকশন ডেফিনেটলি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, নন্দিতা?

নন্দিতা: অ্যাবসোলিউটলি। যখন এই ছবিটার জন্যআমার কাছে কোনও পয়সা ছিল না, তখন থেকে লোকেশন দেখেছি। কারণ সেটাই তো কনটেক্সট তৈরি করবে। সেটে সুইচবোর্ড বা ফানির্চার ঠিক আছে কিনা, আগে দেখে নিতাম। রিতা ঘোষ আর্ট ডিরেকশন দিয়েছে। খুব ভাল কাজ করেছে। তবে আর্ট, মিউজিক, সিনেমাটোগ্রাফি কোনওটাই যেন ওভার পাওয়ার হয়ে না যায়, ক্যারেক্টার বা গল্পের ওপর না যায়, সেটা দেখাটা ছিল আমার কাজ।

ডিরেক্টর হিসেবে, ‘মান্টো’ তৈরি করতে এত সময় লাগল কেনো?

নন্দিতা: সব কিছু রিটেন মেটিরিয়াল থেকে খুঁজতে হয়েছে তো। রিসার্চে অনেকটা সময় লেগেছে। লিখতে সময় লেগেছে। তারপর ফান্ড জোগাড় করা, কাস্ট, লোকেশন…।

এর পর কি নতুন কিছু, নাকি আবার পিরিয়ড ফিল্ম?

নন্দিতা: না, এখন আর পিরিয়ড করব না। আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। কোনো একটা জিনিস রিক্রিয়েট করাটা খুবই কষ্টকর।

বাংলা ছবি নন্দিতাকে আবার কবে পাবে?

নন্দিতা: ভালো একটা ছবির অফার এসেছিল। নাম বলতে পারব না (হাসি)। ‘মান্টো’র জন্য আর কিছু ভাবতে পারিনি তখন। আমারই এক বন্ধু অভিনয় করছে।

আর ডিরেকশন?

নন্দিতা: বাংলায় ডিরেকশন নিয়ে ভাবিনি এখনো। এখানে তো কতো ভালো ভালো ডিরেক্টররা রয়েছেন…

তথ্য সূত্র: এবিপি

ইসি/