শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫

শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:২৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮

শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন

মৃত্যুর পর দুইদিন কেটে গেছে। এখনো দেশের মাটিতে ফেরেনি মৃতদেহ। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন না হওয়ায় দুবাই থেকে কিংবদন্তি অভিনেত্রীর মৃতদেহ মুম্বাইয়ে নেওয়ার অনুমতি মিলছে না।

শনিবার রাতে দুবাইয়ের একটি হোটেলে বাথরুম থেকে ৫৪ বছর বয়সী অভিনেত্রীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে বলা হচ্ছিল, হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু দু’দিন পর সোমবার বিকেলে দুবাই পুলিশ জানায়, পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর।

এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে দুই দিনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার্স নামে যে হোটেলে শ্রীদেবী কয়েক দিন ধরে ছিলেন, তারই বাথরুমের বাথটাবের পানিতে তার মৃত্যু হয়েছে। সামান্য উচ্চতার একটা বাথটাব। পানি ভরলেও উচ্চতা দেড় ফুটের বেশি হবে না। তাতে কী করে ডুবে গেলেন পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার ওই অভিনেত্রী অনেকের মনেই প্রশ্নটা ঘুরছে।

দুবাই পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞান অবস্থায় পানিতে ডুবে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। কিন্তু, অজ্ঞান হলেন কীভাবে? সে প্রশ্নের জবাব এখনো মেলেনি।

দুবাই পুলিশ বা সে দেশের মিডিয়া সেন্টার যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে হার্ট অ্যাটাকের কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে অজ্ঞান হয়েই পানিতে ডুবে যাওয়ার কথা।

প্রশ্ন উঠেছে শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুরের ভূমিকা নিয়েও। কারণ, দুবাইয়ের সংবাদপত্র ‘খালিজ টাইমস’ প্রথমে জানিয়েছিল, বনি সেই সময় হোটেলে শ্রীদেবীর রুমে ছিলেন।

শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তিনি মুম্বাই থেকে দুবাই পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি শ্রীদেবীর হোটেলেই পৌঁছেছিলেন তিনি।

স্ত্রীর সঙ্গে মিনিট ১৫ আড্ডা দেওয়ার পর ডিনারের প্রস্তাব দেন। আর তাতে রাজি হয়ে যান শ্রীদেবী। ডিনারে যাবেন বলে তৈরি হতে গিয়েছিলেন বাথরুমে।

কিন্তু, অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বেরিয়ে আসেননি। তখন বনি বাথরুমের দরজা ভেঙে স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। অজ্ঞান অবস্থায় শ্রীদেবী নাকি বাথটাবের ভেতরেই পড়ে ছিলেন। ঘরে এনে স্ত্রীর সংজ্ঞা ফেরানোর নানা চেষ্টা করেন বনি। কিন্তু, কোনো কাজ হয়নি। পরে এক বন্ধুকে ডেকে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা শ্রীদেবীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, কাপুর পরিবারের তরফে জানানো হয়, হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর।

আবার অন্য একটা সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ রুম সার্ভিসে ফোন করে তার ঘরে পানি দিতে বলেছিলেন শ্রীদেবী। মিনিট ১৫ পর হোটেলের এক কর্মী শ্রীদেবীর ঘরে পানি দিতে গিয়ে তার কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। একাধিক বার ডোরবেল বাজানোর পর যখন দরজা খোলেননি শ্রীদেবী, তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। ঘরে ঢুকে তারা দেখেন, শ্রীদেবী বাথটাবে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাহলে বনি সেই সময় কোথায় ছিলেন?

শ্রীদেবীর দেহের ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে যে রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে বলা হয়েছে অচৈতন্য অবস্থায় পানিতে ডুবে মৃত্যু।

একটা সময় জানা গেল, ময়নাতদন্তে মৃতের শরীরে অ্যালকোহল মিলেছে। কিন্তু সেই অ্যালকোহলের পরিমাণ কতটা, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ডেথ সার্টিফিকেটে তার অচৈতন্য হয়ে পড়ার কথা থাকলেও অ্যালকোহলের কারণেই তা হয়েছিল কি না সে ব্যাপারে কোনো আলোকপাত করা হয়নি। 

আরো একটি প্রশ্ন উঠেছে, ভাগ্নের বিয়ের পর মেয়ে খুশিকে নিয়ে মুম্বাই ফিরে এসেছিলেন বনি কাপুর। দু’দিন পরই দুবাই ফিরে যান। ওই দু’দিন হোটেলেই একা ছিলেন শ্রীদেবী। তাকে একবারের জন্যও ঘরের বাইরে দেখা যায়নি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অভিনেত্রী? সে কারণেই তাকে বাইরে দেখা যাচ্ছিল না? তিনি কি অবসাদ কাটাতে ওষুধ খেতেন?

এসব বিষয়ে কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালের এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আত্মহত্যা (সুইসাইডাল) বা খুনের (হোমিসাইডাল) প্রাথমিক প্রমাণ না পেলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আমরা ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ড্রাউনিং’ বা ‘দুর্ঘটনায় ডুবে মৃত্যু’ বা ‘ডুবে আকস্মিক মৃত্যু’ লিখি না। শুধু ‘ডুবে মৃত্যু’ বা ‘ড্রাউনিং’ লিখি। এবার সেটা আত্মহত্যা, নাকি খুন বা দুর্ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখার কাজটা পুলিশের। আমাদের নয়।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, রিপোর্টে যা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে কোথাও বলা হয়নি, শ্রীদেবীর শরীরে বাইরে থেকে কোনো আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা ছিল। তাই খুন বলা যাচ্ছে না। কোনো ভারী জিনিস দেহে চাপিয়ে শ্রীদেবী বাথটাবে ডুবে আত্মহত্যা করেছেন, এমন প্রমাণও পাননি দুবাইয়ের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

শহরের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রথমে দেখা হয় শরীরের বাইরেটা। সেখানে কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না? তারপর দেহ কেটে হিস্টোপ্যাথলজি ও কেমিক্যাল অ্যানালাইসিস করা হয়। হিস্টোপ্যাথলজিতে দেখা হয় শরীরের কোনো অঙ্গে আগে কোনো রোগ হয়েছিল কি না বা তার মেয়াদ ছিল কত দিনের? আর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে বিশ্লেষণ (কেমিক্যাল অ্যানালাইসিস) করে দেখা হয় বিষ বা অন্য কোনো পদার্থ শরীরে ঢুকে মৃত্যু ঘটিয়েছে কি না? গন্ধ আর বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমেই তা বোঝা সম্ভব হয়।

শ্রীদেবীর ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট হাতে আসার পর দুবাই পুলিশ গোটা ঘটনাটাই সরকারি কৌঁসুলির কাছে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি অনেকগুলো দিক খতিয়ে দেখেই তবে সিদ্ধান্ত নেবেন, শ্রীদেবীর দেহ ভারতে কবে পাঠানো সম্ভব।

শোনা যাচ্ছে বনি কাপুরকে দুবাই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই হোটেলেও গেছেন তারা। সিল করে দেওয়া হয়েছে শ্রীদেবীর সেই ঘর।

নানা প্রশ্নের উত্তর দুবাই পুলিশও খুঁজছে। আননন্দবাজার।

বিএইচ/