অরিজিৎ ছাড়াও আরও চারজনের সঙ্গে বনিবনা নেই সালমানের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

অরিজিৎ ছাড়াও আরও চারজনের সঙ্গে বনিবনা নেই সালমানের

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮

অরিজিৎ ছাড়াও আরও চারজনের সঙ্গে বনিবনা নেই সালমানের

বলিউডে সালমান নিজের কাজের চেয়ে বিতর্কের জেরেই অনেক বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। সম্প্রতি গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে সালমানের বিবাদের জল্পনা বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করেছে ভারতের এবিপি আনন্দ পত্রিকা।

অরিজিৎয়ের সঙ্গে সালমানের ঠাণ্ডাযুদ্ধের সূচনা ২০১৪তে। ওই বছরই আশিকি ২ সিনেমার তুম হি হো গানের জন্য পুরস্কার পেয়েছিলেন অরিজিৎ। পুরস্কার নিতে যেতে একটু দেরি হয়েছিল অরিজিৎয়ের। সেজন্য মজা করার ভঙ্গিতে সালমান বলেছিলেন, ঘুমিয়ে পড়েছিলে নাকি? এর জবাবে অরিজিৎও মজার ছলেই বলেন, আপনারা তো ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ব্যাস, এতেই মেজাজ চড়ে যায় সালমানের। তখন অরিজিৎয়ের মতো গলা নকল করে সালমান বলেছিলেন, আপনারা যতক্ষণ এ রকম গান গাইতে থাকবেন, আমরা শুয়েই থাকব। সালমান ও অরিজিৎয়ের এই লড়াই চার বছরের বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু সালমান অরিজিৎকে ক্ষমা করতে প্রস্তুত নন।

সালমানের বনিবনা নেই রণবীর কাপুরের সঙ্গেও। দুজনের শত্রুতার কারণ ক্যাটরিনা কাইফ বলে জল্পনা। কিন্তু মতবিরোধের এই বীজ রণবীরের সিনেমায় অভিষেক হওয়ার আগে থেকেই পোঁতা হয়ে গিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাঁওরিয়া সিনেমার রিলিজ হওয়ার আগে এক পার্টিতে রণবীরের সঙ্গে দেখা হয় সালমানের। কিন্তু কোনও কারণে দুজনের মধ্যে মতভেদ হয়। সালমান প্রকাশ্যেই হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছিলেন। এরপর রণবীর পার্টি ছেড়ে চলে যান। এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে একবার রণবীরের বাবা ঋষি কাপুর বলেন, এক গলযোগপূর্ণ তারকার জন্য পুরো ইন্ডাস্ট্রিই নাজেহাল। পরে অবশ্য বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়।সালমান রণবীরের আজব প্রেম কি গজব কাহানি-তে ক্যামিও চরিত্রে অভিনয়ও করেন। কিন্তু রণবীরের সঙ্গে ক্যাটরিনার ঘনিষ্ঠতা সালমানকে রুষ্ট করে। সালমান ও ক্যাটরিনার মধ্যে এখন ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে। কিন্তু রণবীরের সঙ্গে সালমানের সম্পর্কের মেরামতি অধরাই রয়ে গেছে।

রাগী মনোভাব ও উদ্ধত স্বভাবের জন্যই সালমানের সঙ্গে অনেকের সঙ্গে বিবাদ তৈরি হয়। এ ধরনের একটা ঘটনা বলিউডের অপর অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গেও ঘটেছে। সালমানের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের যখন সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়, তখন ঐশ্বরিয়ার বলিউডে ক্যারিয়ার তেমন কিছু ছিল না। ওই সময় বিবেকের সাহায্য পান ঐশ্বরিয়া। তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। যা একেবারেই পছন্দ হয়নি সালমানের। তিনি বিবেককে ঐশ্বরিয়ার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলেন এবং প্রাণে মারার হুমকি পর্যন্ত দিয়ে বসেন বলে অভিযোগ। এর পাল্টা হিসেবে বিবেক প্রেস বৈঠক করে সালমানকে প্রকাশ্যে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ দেন। এরপর অবশ্য ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ ঘটে বিবেকের। বিবেক বেশ কয়েকবার সালমানের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু ভাইজান সালমানের মন তাতে গলেনি।

সালমান ও ঐশ্বরিয়ার সম্পর্কের কথা তো সবাই জানেন। হাম দিল দে চুকে সনম সিনেমার সেট থেকে সেই সম্পর্কের শুরু। তাদের দুজনের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে বেশ কয়েকটি বিনোদন পাতার শিরোনামও হয়েছে। এরপর দুজনের তীব্র বিবাদ শুরু হয়। শেষপর্যন্ত সম্পর্ক বিচ্ছেদ ঘটে।

স্টারডমের অহমিকাই তার রাগের কারণ নয়। আসলে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রাগী স্বভাবের সালমান। ১৯৯৪-এ আন্দাজ আপনা আপনা সিনেমা থেকে সালমান আমির খানের বন্ধুর মতো সম্পর্ক হয়।  সেইসঙ্গে কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের সঙ্গে বিবাদও হয় সেখানেই। স্বয়ং সরোজ একটি সাক্ষাত্কারে অভিযোগ করেন, সালমান তার বিরুদ্ধে অপশব্দ প্রয়োগ করেছিলেন। সরোজের দাবি সালমান তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, এখন তো আমিরকে বেশি পাত্তা দিচ্ছেন। দেখবেন, একদিন আমি সবচেয়ে বড় তারকা হব এবং তখন আপনার সঙ্গে কাজ করব না। এরপর থেকে দুজনে আর কখনও একসঙ্গে কাজ করেননি।

জিজাক/