বুলবুলে ইটভাটায় শতকোটি টাকার ক্ষতি, বিপাকে ঋণগ্রস্তরা

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বুলবুলে ইটভাটায় শতকোটি টাকার ক্ষতি, বিপাকে ঋণগ্রস্তরা

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

বুলবুলে ইটভাটায় শতকোটি টাকার ক্ষতি, বিপাকে ঋণগ্রস্তরা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর প্রভাবে অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ভোলার শতাধিক ইটভাটা। নষ্ট হয়েছে প্রায় এক কোটি তৈরি কাঁচা ইট। প্রায় শতকোটি টাকার অধিক লোকসানের আশঙ্কা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ইটভাটার মালিকরা।ফলে লাভের আশায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা ক্ষতিগ্রস্ত ইটভাটার মালিকরা।

সরেজমিনে ভোলার বিভিন্ন ইটভাটা ঘুরে জানা গেছে, দ্বীপ জেলা ভোলার ২০ লাখ মানুষের ইটের চাহিদার জন্য ১২৫ টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। আবহাওয়া ও পরিবেশের উপর নির্ভর করে প্রতি বছর বাংলা কার্তিক আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত ইটভাটাগুলোতে ইট তৈরির কাজ চলে। সে অনুযায়ী এবছরও আশ্বিন মাসের ১৫ তারিখের পর ভাটাগুলোতে ইট তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর প্রভাবে একটানা বর্ষণ, জোয়ারের পানিতে পোড়ানোর জন্য রাখা কাচা ইট এখন মাটির স্তুপে পরিনত হয়েছে। কয়দিন আগেও এ ইট ভাটাগুলোতে সারি সারি কাচা ইট সাজানো ছিল। এতে করে ইট পোড়ানোর আগেই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ফলে এ ইটভাটাগুলোর নতুন ইট উৎপাদন দু’মাস পিছিয়ে গেছে।

ইটভাটার মালিকরা জানান, লাভের আশায় প্রতি বছরের মত এবছরও বিভিন্ন ব্যাংক ও স্থানীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ইটভাটার কাজ শুরু করেছেন তারা। ঘূর্ণিঝড় তাদের সে আশা পণ্ড করে দিয়েছে। পাশাপাশি চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে মালিকরা। তাই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন তারা।

মায়ের দোয়া ও সাবাব ব্রিকস এর মালিক আমির হোসেন জানান, ঝড়ে তার দুইটি ফিল্ডের ১৩ লক্ষ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এবং ইট পোড়ানোর জন্য আনা মজুদকৃত কয়লা জোয়ারের পানিতে নদীতে চলে গেছে। এতে করে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তার দাবি।

ইলিশা ব্রিকস্ এর মালিক মাকসুদুর রহমান জানান, ঝড়ের আঘাতে তার ফিল্ডের প্রায় ১০ লাখ কাচা ইট পাটিতে পরিনত হয়েছে। এতে তার অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে।

একই অবস্থা ভোলা সদর উপজেলার রূপালী ব্রিকস ও সুরামা ব্রিকস এর মালিক মো. নুরুল ইসলামের। তার দুইটি ইট ভাটায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ কাঁচা ইট পানিতে সাথে মিশে গেছে।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একতা ও ফ্রেন্ডস ব্রিকস এর মালিক তরিকুল ইসলাম কায়েদ জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ভোলার প্রায় ১২৫টি ইট ভাটার সবগুলোই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যার আর্থিক পরিমান শত কোটি টাকা। এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য চলতি অর্থ বছরে ইটভাটা মালিকদের আয়কর মওকুফের দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, সরকার যদি এ সকল ইট ভাটার মালিকদের আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ দেয়া ও পূর্বের ঋণের সুদ মওকুফ না করে তাহলে তারা পথে বসে যাবে।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ইটভাটার মালিকরা যদি তাদের ক্ষতি নিরুপন করে আমাদের কাছে আবেদন করেন তাহলে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবো। যাতে করে তারা সহজ শর্তে দীর্ঘ মেয়াদী ঋণসহ আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।

ওএম/এমকে

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও