ঝালকাঠিতে ‘বুলবুলের’ আঘাতে নির্মাণাধীন গুচ্ছগ্রামের ২৭ ঘর লণ্ডভণ্ড

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঝালকাঠিতে ‘বুলবুলের’ আঘাতে নির্মাণাধীন গুচ্ছগ্রামের ২৭ ঘর লণ্ডভণ্ড

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ১১:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

ঝালকাঠিতে ‘বুলবুলের’ আঘাতে নির্মাণাধীন গুচ্ছগ্রামের ২৭ ঘর লণ্ডভণ্ড

ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের বিষখালি নদীর তীরের চরে অবস্থিত চর পালট গুচ্ছগ্রামের নির্মাণাধীন ১৭টি ঘর পুরো বিধ্বস্তসহ ২৭টি ঘর প্রলংয়কারী ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির পানিতে বালু ও মাটি ধূয়ে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে চর পালট গচ্ছগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটির দাবি করেছে।

ফলে যথা সময়ে এ ঘরগুলো ভুক্তভোগীদের মাঝে হস্তান্তর নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তাদের দাবি, সরকার এ বিষয়ে দ্রুত নজর দিবে এবং ক্ষতি পুষিয়ে যাতে ঘরগুলো পুনরায় নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বড়ইয়া ইউনিয়নের বিষখালি নদীর তীরের চর ভরাট করে গুচ্ছগ্রামে ৭০টি ঘর, টিউভওয়েল ও লেট্রিন নির্মাণের জন্য সিবিআরপি-২ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। সে অনুয়ায়ী গত সেপ্টেম্বর মাসে চরে বালু ফেলে উঁচু করে ঘর নির্মাণ ও লেট্রিনসহ যাবতীয় কাজ শুরু করা হয় এবং নভেম্বরের শেষের দিকে কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার কথা ছিল।

নির্মাণ কাজে নিয়োজিত মিস্ত্রী এবং শ্রমিক ফরহাদ হোসেন জানান, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে নির্মাণ করা ঘরগুলো একের পর এক মাটিতে ভেঙে পড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে ঘরগুলোর টিন, পিলার ও লোহার পাত ভেঙে ও নষ্ট হয়ে যায়।

জামাল হোসেন বলেন, ঝড়ের সময় জীবন বাঁচাতে নিরুপায় হয়ে মালামাল ফেলে রেখে সেখান থেকে চলে যায়।

প্রকল্প বাস্তাবায়ন কমিটির সম্পাদক আব্দুল মালেক জানান, ঘরনির্মাণ ও অন্য মালামাল ঝড়ে ও পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ১৭টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ১০টি ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং পানিতে প্রায় ১ ফুট মাটি ও বালু ধূয়ে নেমে গেছে।

চর পালট গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তাবায়ন কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য আহসান কবির জানান, চর পালট গুচ্ছগ্রামে ৭০টি ঘর, টিউভওয়েল ও লেট্রিন নির্মাণের জন্য গুচ্ছগ্রাম সিবিআরপি-২ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। সে মর্মে কাজ শুরু করে ৩৫টি ঘরের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এমতাবস্থায় ঝড়ে ১৭টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ১০টি ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকার যদি এ ক্ষতির বিষয়ে নজর না দেয়, তাহলে কোনোভাবেই এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয় ।

রাজাপুরের উপজেলা নির্বহী অফিসার মো: সোহাগ হাওলাদার জানান, চর পালট গুচ্ছগ্রামটি বড়ইয়া ইউনিয়নের বিষখালি নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে নির্মাণ কাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে এ ক্ষতির বিষয়ে কোনো সহায়তা বা বরাদ্দ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান জানান, বিষখালি নদীর চরে খোলা স্থানে হওয়ায় ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে গুচ্ছগ্রামের নির্মাণাধীন ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া উচিৎ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত কাজ নির্মাণ সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

এআরই

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও