ঝালকাঠিতে বুলবুলের প্রভাবে ৪১৫ কি.মি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঝালকাঠিতে বুলবুলের প্রভাবে ৪১৫ কি.মি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ৮:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

ঝালকাঠিতে বুলবুলের প্রভাবে ৪১৫ কি.মি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ঝালকাঠিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ৮১৭টি কাঁচা ঘরবাড়ি ও ৪১৫ কিলোমিটার রাস্তা। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা।

টানা বৃষ্টি এবং সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪/৫ ফুট বেড়ে তলিয়ে গেছে ৬১৫টি মাছের ঘের ও পুকুর। এছাড়া ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির উঠতি আমন ও উপশ উচ্চ ফলনশীল জাতের ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টরের ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়েছে।  ৫ হাজার ২২০ হেক্টরের অন্যান্য ফসল, ১ হাজার ৪৫০ হেক্টরের শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮১৭টি ঘর-বাড়ীর পাশাপাশি আরো ৫টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছপালা পড়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শহর এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী জানিয়েছেন, ঝড়ের রাতে ঝালকাঠি জেলার ৭৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১১ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল যা এ জেলায় বন্যাকালীন সময় আশ্রয় কেন্দ্রে আসা সর্বাধিক সংখ্যা। রাতের বেলায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে তাদের মাঝে।

অন্যদিকে, বন্যা পরবর্তি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ কাজ শুরু করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। সরকার এজন্য ১০০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য ও ১০ লাখ টাকা প্রাথমিক বরাদ্দ দিয়েছে এবং সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত  মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য আরও অর্থ প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের হিসাবমতে ঝালকাঠি জেলায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯শ ৮৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন এবং সঠিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। কৃষকদের তারা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

জেআই/এমকে

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও