ভোলার ঘটনায় পুলিশের পৃথক দুই মামলা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ভোলার ঘটনায় পুলিশের পৃথক দুই মামলা

ভোলা প্রতিনিধি ৩:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

ভোলার ঘটনায় পুলিশের পৃথক দুই মামলা

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুকে আল্লাহ ও নবীকে নিয়ে কটূক্তি করার ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশালের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। গতকাল রোববারের ওই সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত ও দেড় শতাধিক লোক আহত হয়।

আজ সোমবার দুপুরে মামলার তথ্য সাংবাদিকদের জানান শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, রোববার পুলিশ অ্যাসল্ট, কর্তব্য কাজে বাধা এবং ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ওইদিন রাতে পুলিশ বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ হাজার বিক্ষোভকারীকে আসামি করা হয়।

ডিআইজি শফিকুল আরও জানান, ফেসবুকে বিশ্বনবী সা.-কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিপ্লব চন্দ্র শুভ, ঈমন এবং শাকিল নামের তিন জনের বিরুদ্ধে বোরহানউদ্দিন থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে আল্লাহ ও মহানবী সা.-কে কটূক্তি করা নিয়ে গতকাল রোববার পুলিশের সাথে জনতার সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ১০ পুলিশসহ প্রায় দেড় শতাধিক আহত হন। আহতদের মধ্যে শতাধিক মুসল্লিকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে, ৪৩ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং গুরুতর ১৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪ প্লাটুন বিজিবি ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে একজন আল্লাহ ও রাসূল সা. সম্পর্কে ম্যাসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠায় এবং স্ট্যাটাস দেয়।

এর প্রতিবাদে গতকাল রোববার বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে সর্বস্তরের তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, বিক্ষোভ মিছিলটি না করার জন্য বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে পুলিশ অনুরোধ জানায়। পুলিশের অনুরোধে এ দুই ইমাম সকাল ১০টায় যেসব লোক আসেন তাদের নিয়ে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি সমাপ্ত করেন।

কিন্তু ততক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক এসে ঈদগাহে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ওই দুই ইমামের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং সেখানে থাকা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে মসজিদের ইমামের রুমে আশ্রয় নেয়।

এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় পুলিশ নিজেদের বাঁচানোর জন্য উত্তেজিত মুসল্লিদের ওপর ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এতে সেখানে থাকা মুসল্লিরা আরো উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশের সাথে মুসল্লিদের সংঘর্ষ হয়। এতে চার মুসল্লি নিহত হন এবং ১০ পুলিশ সদস্যসহ দেড় শতাধিক মুসল্লি আহত হন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।‌‌

এ ঘটনার পর রোববার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে আজ সোমবার প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না মেলায় সে সমাবেশ স্থগিত করা হয়।

এএম/আরপি

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও