ভোলায় এসপি-ওসির অপসারণসহ ৬ দাবি মুসলিম ঐক্য পরিষদের

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ভোলায় এসপি-ওসির অপসারণসহ ৬ দাবি মুসলিম ঐক্য পরিষদের

ভোলা প্রতিনিধি ২:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

ভোলায় এসপি-ওসির অপসারণসহ ৬ দাবি মুসলিম ঐক্য পরিষদের

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সাথে জনতার সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

ভোলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার ওসির অপসারণসহ ৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

এ সময় ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখার স্বার্থে সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলমান থাকবে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকালে প্রতিটি উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি, বুধবার বেল ১১টায় জেলা শহরে মানববন্ধন এবং বৃহস্পতিবার বিকালে নিহতদের জন্য দোয়া ও মুনাজাতের কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যুগ্ম-সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, আল্লাহ এবং নবী-রসুলদের নিয়ে কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে যদি দেশে কঠিন শাস্তির আইন থাকতো তাহলে রোববার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের গুলিতে ৪ মুসলিমকে নিহত হতে হত না।

তিনি বলেন, মহানবী সা. ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলামের ব্যঙ্গ ও কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে। বিপ্লব চন্দ্র শুভ’র সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে। সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহতদেরকে সরকারি খরচে চিকিৎসা দিতে হবে। এ ঘটনায় আটকদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইয়াকুব আলী চৌধুরী, মাওলানা মো. ইউসুফ, মাওলানা মো. আতাহার আলী, মাওলানা তয়বুর রহমান, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা মাহাবুবুর রহমান, সদস্য সচিব মাওলানা তাজুদ্দিন ফারুকী প্রমুখ।‌‌

উল্লেখ্য, ফেসবুকে আল্লাহ ও মহানবী সা.-কে কটূক্তি করা নিয়ে গতকাল রোববার পুলিশের সাথে জনতার সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ১০ পুলিশসহ প্রায় দেড় শতাধিক আহত হন। আহতদের মধ্যে শতাধিক মুসল্লিকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে, ৪৩ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং গুরুতর ১৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪ প্লাটুন বিজিবি ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে একজন আল্লাহ ও রাসূল সা. সম্পর্কে ম্যাসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠায় এবং স্ট্যাটাস দেয়।

এর প্রতিবাদে গতকাল রোববার বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে সর্বস্তরের তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, বিক্ষোভ মিছিলটি না করার জন্য বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে পুলিশ অনুরোধ জানায়। পুলিশের অনুরোধে এ দুই ইমাম সকাল ১০টায় যেসব লোক আসেন তাদের নিয়ে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি সমাপ্ত করেন।

কিন্তু ততক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক এসে ঈদগাহে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ওই দুই ইমামের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং সেখানে থাকা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে মসজিদের ইমামের রুমে আশ্রয় নেয়।

এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় পুলিশ নিজেদের বাঁচানোর জন্য উত্তেজিত মুসল্লিদের ওপর ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এতে সেখানে থাকা মুসল্লিরা আরো উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশের সাথে মুসল্লিদের সংঘর্ষ হয়। এতে চার মুসল্লি নিহত হন এবং ১০ পুলিশ সদস্যসহ দেড় শতাধিক মুসল্লি আহত হন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।‌‌

এ ঘটনার পর রোববার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে আজ সোমবার প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না মেলায় সে সমাবেশ স্থগিত করা হয়।

এএম/আরপি

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও