ভোলায় অনুমতি না মেলায় সমাবেশ স্থগিত

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ভোলায় অনুমতি না মেলায় সমাবেশ স্থগিত

ভোলা প্রতিনিধি ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

ভোলায় অনুমতি না মেলায় সমাবেশ স্থগিত

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষে চার জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছ। আজ সোমবার সকাল ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল।

পরিষদের অন্যতম নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় তারা সমাবেশ করছেন না।

গতকাল রোববার বিকালে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে পরিষদের নেতারা সোমবার প্রতিবাদ সভা ঘোষণার পাশাপাশি ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো- বিপ্লব চন্দ্র শুভর ফাঁসি কার্যকর, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর, আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা, ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিনের ওসিকে প্রত্যাহার, নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আটকদের বিনা শর্তে মুক্তি প্রদান।

সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মাওলানা বশির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মাওলানা তরিকুল ইসলাম, আতাউর রহমান, তাজউদ্দিন ফারুকী ও মিজানুর রহমান।

এদিকে, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে আল্লাহ ও মহানবী সা.-কে কটূক্তি করা নিয়ে ভোলায় গতকাল রোববার পুলিশের সাথে জনতার সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ১০ পুলিশসহ প্রায় দেড় শতাধিক আহত হন। আহতদের মধ্যে শতাধিক মুসল্লিকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে, ৪৩ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর ১৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মাহবুব পাটওয়ারী (১৪), শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মাহফুজ (৪৫), মনপুরা হাজিরহাট এলাকার মিজান (৪০)।  এদের মধ্যে একজন মাদরাসাছাত্র ও একজন কলেজছাত্র।

বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪ প্লাটুন বিজিবি ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে একজন আল্লাহ ও রাসূল সা. সম্পর্কে ম্যাসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠায় এবং স্ট্যাটাস দেয়।

এর প্রতিবাদে গতকাল রোববার বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে সর্বস্তরের তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, বিক্ষোভ মিছিলটি না করার জন্য বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে পুলিশ অনুরোধ জানায়। পুলিশের অনুরোধে এ দুই ইমাম সকাল ১০টায় যেসব লোক আসেন তাদের নিয়ে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি সমাপ্ত করেন।

কিন্তু ততক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক এসে ঈদগাহে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ওই দুই ইমামের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং সেখানে থাকা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে মসজিদের ইমামের রুমে আশ্রয় নেয়।

এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। তারা নিজেদের বাঁচানোর জন্য উত্তেজিত মুসল্লিদের ওপর ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এতে সেখানে থাকা মুসল্লিরা আরো উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশের সাথে মুসল্লিদের সংঘর্ষ হয়। এতে চার মুসল্লি নিহত হন এবং ১০ পুলিশ সদস্যসহ দেড় শতাধিক মুসল্লি আহত হন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ওএস/আরপি
আরও পড়ুন...
ভোলায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে নিহত ৪

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও