ভোলায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে নিহত ৪ 

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ভোলায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে নিহত ৪ 

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা ৪:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

ভোলায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে নিহত ৪ 

ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে কটূক্তি করা নিয়ে ভোলায় সাধারণ তৌহীদি জনতার বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং ১০ পুলিশসহ প্রায় দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আহত প্রায় শতাধিক মুসল্লিকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে এবং ৪০ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর ১০-১৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মাহাবুব পাটওয়ারী (১৪), বোরহানউদ্দিন পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫), শাহিন (২৩) ও মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।

অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার বিকেলে বিপ্লব চন্দ্র শুভর নিজের ছবি সংবলিত ফেসবুক আইডি থেকে আল্লাহ তাঁর রাসুল (সঃ) কে গালাগাল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে ম্যাসেজ পাঠানো হয়। যাদের ম্যাসেজে পাঠানো হয় তারা ম্যাসেজটি স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে দিলে লোকজন প্রতিবাদ জানানো শুরু করে।

এ নিয়ে আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সমাবেশ না করার জন্য বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে পুলিশ অনুরোধ জানায়। এবং সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশে আসার আগেই বন্ধ ঘোষণা করতে বলে।

তাদের অনুরোধে এই দুই ইমাম সকাল ১০টার দিকেই যে সকল লোক আসেন তাদেরকে নিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু ততক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক এসে ঈদগাহে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে তারা ওই দুই ইমামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এবং সেখানে থাকা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ওই মসজিদের ইমামের রুমে আশ্রয় নেয়।

এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশের সাথে মুসল্লিদের সংঘর্ষ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে চার মুসল্লি নিহত হন। এবং ১০ পুলিশ সদস্যসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

এদের মধ্যে অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এবং বাকিদের বোরহানউদ্দিন ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন মাদ্রাসা ছাত্র ও কলেজের ছাত্র রয়েছেন।

এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বোরহানউদ্দিনে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়োন করা হয়েছে।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিপ্লব কুমার শুভ নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। আমরা হ্যাকের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আটক করেছি। আমরা এ নিয়ে গত রাতে স্থানীয় আলেমদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, আজকের প্রোগ্রাম হবে না। কিন্তু সকাল থেকে আমাদের কাছে খবর আসে সেখানে মাইকিং হচ্ছে এবং স্টেজ বানানো হচ্ছে। সেখানে গিয়ে আমরা উপস্থিত মুসল্লিদের সাথে কথা বলেছি। এবং আমি নিজে সেখানে বক্তব্য দিয়েছি। তারা সবাই আমার বক্তব্য শুনেছে।

তিনি বলেন, যখন আমি স্টেজ থেকে নেমে আসি তখন এক দল উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা আত্মরক্ষার্থে একটি রুমে গিয়ে আশ্রয় নেই। কিন্তু যখন তারা আমাদের রুমের জানালা ভেঙে ফেলতে থাকে তখন আমরা প্রথমে শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ি। পরবর্তীতে এতে কাজ না হওয়ায় উপরের দিকে গুলি চালানো হয়। এতে আমার জানা মতে একজন পুলিশ সদস্যের বুকে গুলি লেগে গুরুতর আহত হয়। আমরা আহত অবস্থায় যাদের হাসপাতালে পাঠিয়েছি তাদের মধ্যে তিনজন নিহত হয়েছে। তবে বাকি আরও থাকতে পারে সে ব্যাপারে আমাদের কাছে তথ্য নেই।

এসি/আরপি

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও