পদ্মার ফের ভাঙন, মসজিদ-মক্তবসহ ১৩ পরিবার গৃহহীন

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

পদ্মার ফের ভাঙন, মসজিদ-মক্তবসহ ১৩ পরিবার গৃহহীন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ৭:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯

পদ্মার ফের ভাঙন, মসজিদ-মক্তবসহ ১৩ পরিবার গৃহহীন

বর্ষার শেষদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে শরীয়তপুরের নড়িয়ায়। গত ২৪ ঘণ্টায় নড়িয়ার সাধুর বাজার এলাকার বুন্না গ্রামের ১টি মসজিদ, ১টি মক্তব তিনটি পাকা ভবনসহ ১৩টি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।

একইসঙ্গে বিলীন হয়েছে পদ্মার ডান তীর রক্ষাবাঁধের ২০৭ মিটার। ভাঙনের মুখে পড়েছে প্রায় আরও শতাধিক পরিবার। ফলে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে পদ্মাপাড়ের মানুষের।

এসব এলাকার লোকজন দিনরাত তাদের বসতঘর, আসবাপত্র, গবাদী পশু ও গাছপালা কেটে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শত চেষ্টার পরেও তাদরে চোখের সামনেই সবকিছু কেড়ে নিচ্ছে সর্বনাশা পদ্মা। স্থানীয়দের সহায়তায় জরুরি ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, গত বছর নড়িয়ার ভয়াবহ ভাঙনে ৫ হাজার ৮১টি পরিবার গৃহহীন হয়ে যায়। বিলীন হয়ে যায় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অসংখ্য স্থাপনা। এ বছর বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে এসে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে হঠাৎ করে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের উত্তর কেদারপুর এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এতে বুন্না গ্রামের দারুসসালাম জামে মসজিদ, তারা মিয়ার বেপারীর দ্বি-তল ভবান,কাদের মুন্সী, বাদশাহ মুন্সী, মতি বেপারী, মঞ্জু বেপারী ও রতন বেপারীর বাড়িঘরসহ ১৩টি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। একই সাথে বিলীন হয়েছে পদ্মার ডান তীর রক্ষাবাঁধের ২৮০ মিটার। ভাঙনের মুখে পড়েছে প্রায় আরও অর্ধশতাধিক পরিবার।

এদিকে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম শুক্রবার সকালে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে এসে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ ও ১০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফেজ সানাউল্লাহ বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর কেদারপুর নড়িয়া রক্ষা বাঁধ ধসে পড়েছে। এতে একটি মসজিদ, পাকা বাড়ি, ফসলি জমিসহ গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনো ভাঙন অব্যাহত আছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রূপা রায় বলেন, ভাঙনের খবরের সাথে সাথে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙন কবলিতদের নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে নেয়ার কাজ করছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃঞ্চ সরকার জানান, হঠাৎ পদ্মার ভাঙনে রক্ষাবাঁধের উত্তর কেদারপুর এলাকায় ধস দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌঁছে বাধরক্ষার জন্য স্থানীয়দের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছি।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম রক্ষাবাঁধের কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নড়িয়ার নদীভাঙন রোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়িয়াকে রক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন নড়িয়া অত্যন্ত ঝুকিপুর্ণ ভাঙনপ্রবণ এলাকা। গত বর্ষায় পদ্মার ভাঙনে নড়িয়ার ৫ হাজার ৮১ পরিবার গৃহহীন হয়েছিল। বিষয়টিকে মাথায় রেখে আমাদের এ বছর ২৮ লাখ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার কথা থাকলেও আজকে পর্যন্ত ৩৩ লাখ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। তারপরেও গতকাল হঠাৎ করে রক্ষাবাঁধের ২০৭ মিটার এলাকা ও ৮-১০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমি সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক সকাল ৮টার মধ্যে আপনাদের পাশে ছুটে এসেছি। আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন, সরকার এবং আমরা আপনাদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ নড়িয়ার মানুষ বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

এ সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি মাহফুজুর রহমান, চিফ ইঞ্জিনিয়ার কাজী তোফায়েল হোসেন, ফরিদপুর অঞ্চলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী, নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম ইসমাইল হক, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়ন্তী রূপা রায়, শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার, নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

এইচআর

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও