ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ (ভিডিও)

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ (ভিডিও)

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা ৩:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

ভোলার মেঘনা-তেতুলিয়া নদীতে জেলেদের সোনালী জালে রূপালি ইলিশের দেখা মিলেছে। ভরা মৌসুমের শুরুতে নদীতে ইলিশের দেখা না পেয়ে জেলেরা যখন দিশেহরা ঠিক সে মুহুর্তেই ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।

এতে জেলে, পাইকার ও আড়তদারদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইলিশে কর্মব্যস্ত সময় কাটছে জেলার প্রতিটি মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। অথচ আগামী ৯ অক্টোবর থেকেই মা ইলিশ রক্ষায় বন্ধ হয়ে যাবে মাছ ধরা। এতে জেলে এবং মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

সরেজমিনে ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে জেল ও মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে জানান যায়, ভরা মৌসুমেও উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার নদ-নদী ইলিশের দেখা পায়নি জেলেরা। গত দু’সপ্তাহ ধরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে।

ক’দিন আগেও যেসকল মাছ ঘাটগুলোতে ছিল শুনশান নিরবতা এখন সেখানে আড়তদার আর পাইকারের হাকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে। একটু পর পরই মাছ ধরার ট্রলার বোঝাই ইলিশ নিয়ে সাগর ও নদী থেকে মাছঘাটে ফিরছে জেলেরা। ঘাটে নৌকা অথবা ট্রলার ভিড়ানোর সাথে সাথেই হাঁকডাক দিতে থাকেন ব্যাপারীরা।

জেলেরা ঝুঁড়িতে করে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ নির্দিষ্ট গোলায় রাখেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ইলিশ কিনতে নিলামে ডাক উঠে যায়। স্থানীয় ব্যাপারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যদাতাই সেই মাছ কিনে নিচ্ছেন। প্রতিদিন এভাবেই জেলার চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ থেকে বঙ্গেরচর পর্যন্ত শতাধিক মাছঘাটের ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার ইলিশ মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে যাচ্ছে।

তবে ইলিশ ধরা পড়লেও স্বস্তি নেই জেলেদের। কারণ ভরা মৌসুমে বেশি মাছ ধরার আশায় ধার দেনা করে মাছ ধরতে নেমেছেন তারা। অথচ আগামী ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে সব ধরনের মাছধরার উপর নিষেধজ্ঞা দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এতে জেলে এবং মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। তাই জেলে এবং মাছ ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এসময় কথা হয় সদর উপজেলার নাছির মাঝি মাছঘাটে জেলে ফয়সাল মাঝির সাথে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে গত ৬ মাস নদীতে ইলিশের দেখা মিলেনি। গত দু’সপ্তাহ ধরে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। গত এক মাস আগেও ভোলার নদ-নদী ছিল ইলিশ শুণ্য। এখন জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে করে জেলেদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করলেও মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তিনি শংকা প্রকাশ করেন। মাছ ধরায় অবরোধ পিছিয়ে না দিলে দেনা শোধ করা কষ্টসাধ্য হবে বলেও জানান তিনি।

তুলাতলী মাছঘাটের আড়তদার রিপন হাওলাদার বলেন, গত ১৫ দিন আগেও একজন জেলে প্রতিদিন মাত্র ২-৩ হাজার টাকার মাছ পেত। আর এখন একজন জেলে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকার মাছ পাচ্ছে। দামও আগের চেয়ে বেশি।

তিনি আরো বলেন, এক কেজি ওজনের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০০ টাকা, ৬০০ গ্রাম ওজনের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা, আর জাটকার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়।      

ভোলা জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ এরশাদ বলেন, প্রতিদিন জেলার চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ থেকে বঙ্গেরচর পর্যন্ত শতাধিক মাছঘাটের ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার ইলিশ মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে যাচ্ছে। দুই সপ্তাহ হলো নদীতে ইলিশের দেখা পেয়েছে জেলেরা। এর মধ্যে আবার অভিযান দেয়ায় জেলেরা হতাশ। তাই অভিযান পেছানোর দাবি তোলেন জৎস্যজীবী সমিতির এই নেতা।

ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান জানান, এবছর ইলিশের প্রাপ্তিটা একটু শেষ দিকে হয়েছে। দেরিতে হলেও প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরাও খুশি আমরাও খুশি। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ইলিশের লক্ষ্যমাত্র পূরণ হবে, অন্যদিকে জেলেদের আর্থিক উন্নয়ন ঘটবে।

তিনি আরো বলেন, জেলেদের যেটা দাবি অবরোধ অগ্রিম হয়েছে তা নয়। আসলে পূর্ণিমা তিথীর উপর ভিত্তি করে ইলিশের প্রজনন মৌসুম নির্ভর করে। তাই জেলেদের দাবির পরিপেক্ষিতে মাছ ধরার অবরোধ পেছানো কোন সুযোগ নেই বলেও জানান মৎস্য প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

ভিডিও লিংক...

এএম/জেডএস/

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও