বরিশালে নিখোঁজ দুই ‘সমকামী’ তরুণী রাজশাহীতে উদ্ধার

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

বরিশালে নিখোঁজ দুই ‘সমকামী’ তরুণী রাজশাহীতে উদ্ধার

ব‌রিশাল প্রতিনিধি ৭:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৯

বরিশালে নিখোঁজ দুই ‘সমকামী’ তরুণী রাজশাহীতে উদ্ধার

চলতি বছরের ১৯ মার্চ বরিশাল মহানগরী থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় দুই তরুণী। এদের একজনের বয়স ১৬। বাবা-মা’র সাথে থাকত নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের আগরপুর রোডের একটি বাসায়। অন্যজনের বয়স ১৮, সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ এই তরুণীটি বিএম কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় স্বজনদের পক্ষ থেকে অপহরণের মামলাও করা হয়।

তবে, নিখোঁজের চার মাস পর নিখোঁজ দুই তরুণীকে রাজশাহী থেকে উদ্ধারের পর বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য।

উদ্ধার দুই তরুণী রাজশাহী পুলিশের কাছে দাবি করেছে, তারা সমকামী। অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় তারা বরিশাল থেকে পালিয়ে রাজশাহীতে এসে ভাড়া বাসায় থাকত।

রোববার বেলা ১২টার দিকে তাদের দু’জনকে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকার শাহমখদুম থানাধীন নওদাপাড়া এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ, ‘অপহরণ’ মামলা:

দুই তরুণী নিখোঁজের পর তিনজনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন স্বজনরা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আল মামুন জানান, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল আগরপুর রোডের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাদী হয়ে তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় নগরের অক্সফোর্ড মিশন রোডের আমজাদ মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা আব্দুর রহমান দুলাল ফকিরের ছেলে উজ্জল হোসেন রানা, স্ত্রী আলেয়া বেগম ও মেয়ে জামাই মো. মাসুমকে অভিযুক্ত করা হয়। এমনকি অপহরণ মামলায় প্রধান আসামি উজ্জল হোসেন রানাকে গ্রেফতারও করা হয়।

যেভাবে উদ্ধার হলো দুই তরুণী:

এসআই মামুন বলেন, নিখোঁজ দুই তরুণীর সন্ধান নিশ্চিত হতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। এতে ওই দুই তরুণীর অবস্থান রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরবর্তীতে কোতয়ালি মডেল থানার এসআই ফিরোজ আল মামুন এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম শনিবার দিনভর রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। পরে সেখানকার শাহমখদুম থানাধীন নওদা পাড়া এলাকায় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর মালিকানাধীন বাড়ী থেকে দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

এসআই মামুন আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত তরুণীরা স্বীকার করেছে যে তারা অপহরণ হয়নি, তারা দু’জন স্বেচ্ছায় পালিয়ে যায়। এমনকি দু’জন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নামের ওই ব্যক্তির কাছ থেকে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছিলো। 

পুলিশের কাছে তারা দাবি করেছে যে, সমকামিতা থেকেই তাদের এ পালিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি অপহরণ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয় বলেও পুলিশকে জানিয়েছে তরুণীরা।

ফিরোজ আলম মামুন বলেন, রোববার সকালে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে বরিশালে আনা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের লোকদের খবর দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দুপুরে তাদের দু’জনকে আদালতে হাজির করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওএস/এএসটি

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও