প্রিয়াকাণ্ডে কী ভাবছে পিরোজপুরবাসী?

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

প্রিয়াকাণ্ডে কী ভাবছে পিরোজপুরবাসী?

জেআই লাভলু, পিরোজপুর ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯

প্রিয়াকাণ্ডে কী ভাবছে পিরোজপুরবাসী?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় প্রিয়া সাহাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া সমালোচনার মুখে সরকার তার অবস্থান পষ্ট করেছে।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যা বলেছেন, তা মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সরকারের একাধিক মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে এলে বক্তব্যের বিষয়ে প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সদুত্তর না পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রিয়া সাহার বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিরী গ্রামে। তার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক।

জাতীয় মহিলা ঐক্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ার বক্তব্যে তার জন্মভূমির মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পিরোজপুরের মানুষ মনে করছেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুবিধা আদায়ে প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই ওভাল হাউসে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানান, বাংলাদেশের মৌলবাদী মুসলিমরা তার জমি কেড়ে নিয়েছে, বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্পদায়ের মানুষ গুম রয়েছেন। আরও ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছেন, যারা দেশটিতে থাকতে চান।’

এ সময় প্রিয়া সাহা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে সাহায্যও চান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রানা দাস গুপ্ত অসুস্থ থাকায় সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে গত ১৬ জুলাই প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে এমন কাণ্ড ঘটান।

প্রিয়া সাহার অভিযোগের বিষয়ে জানা গেছে, তার জমাজমি দখল কিংবা বাড়িঘরে কেউ আগুন দেয়নি। তবে গত ২ মার্চ রাতে তার ভাই সাবেক সচিব ও মুক্তিযোদ্ধা জগদ্বীশ চন্দ্র বিশ্বাসের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম বানিয়ারী গ্রামের বসতঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরের দিন অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করে নাজিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন একাধিকবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন ঘটনার ইঙ্গিত দেন।

পরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা কমিটির নেতারা ৭ মার্চ পুড়িয়ে দেয়া বাড়ি পরিদর্শন করেন।

সে সময় অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা দেয়াসহ সার্বিক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

প্রিয়া সাহা আমেরিকা গিয়ে কেন এমন করলেন— এ বিষয়ে পিরোজুপরের একাধিক ব্যক্তি জানান, মলয়-প্রিয়া দম্পতির মেয়েরা আমেরিকায় লেখাপড়া করছেন। হয়তো তাদের গ্রিনকার্ড পাইয়ে দেয়ার জন্য তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে অনুকম্পা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার বলেন, ‘নাজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানে রয়েছে। এখানে সাম্প্রদায়িক কোনো দাঙ্গা নেই। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ গুম রয়েছেন, উদ্ভট তথ্য কোথায় পেলেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় এমন কোনো গুমের ঘটনা জানা নেই। কেউ যদি স্বেচ্ছায় ভারত বা অন্যত্র চলে যান, এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কাউকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে, এমন সংবাদের ভিত্তি নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি হিন্দু হলেও এখানকার মুসলমানদের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আমি প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়।’

জেআইএল/আইএম

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও