মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবি জানালেন শ্বশুর

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবি জানালেন শ্বশুর

বরগুনা প্রতিনিধি ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০১৯

মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবি জানালেন শ্বশুর

বরগুনায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার শিকার রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম তার পুত্রবধূ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই দাবি জানান।

আবদুল হালিম অভিযোগ করেন, রিফাত হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখে তিনি ধারণা করছেন, তার ছেলেকে হত্যার পিছনে তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত। মিন্নি তার স্বামীকে রক্ষা করতে হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা না করে রিফাতকে যদি জড়িয়ে ধরতো তাহলে তার ছেলে নির্মম হত্যার শিকার হতো না।

আবদুল হালিমের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নিহত নয়ন বন্ডের সঙ্গে হওয়া বিয়ের কথা গোপন করেছিলেন মিন্নি ও তার পরিবার। নয়নকে তালাক না দিয়েই তিনি (মিন্নি) রিফাতকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরেও মিন্নি নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।

তিনি বলেন, নিহত নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগম বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মিন্নি ঘটনার আগের দিনও তার বাসায় গেছেন এবং নয়নের সঙ্গে দেখা করেছেন। এ ছাড়া ঘটনার পর নতুন করে প্রকাশ পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কলেজ গেট থেকে রিফাত শরীফকে ধরে নেওয়ার সময় মিন্নি নির্লিপ্ত ছিলেন। এরপর কুপিয়ে জখম করার পর মিন্নি রিফাতকে হাসপাতালে নেওয়ার বদলে নিজের জুতা খুঁজছিলেন এবং আক্রমণকারীদের একজন তার (মিন্নি) হাতব্যাগ তুলে দিচ্ছিল।

আবদুল হালিম বলেন, এতগুলো তরুণ রিফাতের ওপর হামলা চালাল অথচ একটি আঘাতও মিন্নির শরীরে লাগল না —এটা রহস্যজনক।

তিনি বলেন, রিফাত রক্তাক্ত অবস্থায় একাই রিকশায় করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যান। এরপর যখন গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে অ্যাম্বুলেন্সে বরিশাল নেওয়া হয় তখন মিন্নি তার সঙ্গে যাননি।

আবদুল হালিম বলেন, আমার প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে মিন্নির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় বইলেও কেন তাকে (মিন্নি) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির কাছে দাবি জানাই, অবিলম্বে মিন্নিকে আটক করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। আর সেটা করা হলেই রিফাত শরীফ হত্যার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন হবে।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বেলা তিনটার দিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়। পরদিন এই ঘটনায় রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং ৪-৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেন।

ওএস/এসবি

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও