৬ কোপে মৃত্যুর কোলে রিফাত

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

৬ কোপে মৃত্যুর কোলে রিফাত

বরিশাল ব্যুরো ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯

৬ কোপে মৃত্যুর কোলে রিফাত

বরগুনায় দিন-দুপুরে খুন হওয়া রিফাত শরীফের (২২) ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত হয়।

পরে দুপুর ১টার দিকে স্বজনেরা রিফাতের লাশ নিয়ে সড়ক পথে বরগুনার উদ্দেশে রওনা দেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে রিফাতের লাশ মর্গে আনা হয়। এরপর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জামিল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন- ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. মাইদুল হোসেন ও ডা. সোহেলী আক্তার তন্নী।

ময়নাতদন্ত শেষে অধ্যাপক ডা. জামিল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই বরগুনার রিফাত শরীফ মারা গেছেন।

তিনি জানান, রিফাত শরীফের গলা, মাথা, বুক ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এগুলো ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হয়েছে। আঘাতগুলোর মধ্যে গলা, মাথা ও বুকে তিনটি গুরুতর জখম রয়েছে, বাকি ৩/৪টি আঘাতের চিহ্ন ততটা গুরুতর নয়।

ডা. জামিল হোসেন বলেন, ‘গলার আঘাতের কারণে রিফাতের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ রগ কাটা পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে এতটাই রক্তক্ষরণ হয়েছে যে, সময়ের ব্যবধানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিস্তারিত বিষয়গুলো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই নিশ্চিত করে উল্লেখ করা হবে।’

শেবাচিমের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রিফাতের দেহে ধারালো অস্ত্রের ৬টি আঘাতের চিহ্ন সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর ৩টি।

এর আগে রিফাতের মৃত্যুর পরপরই বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সাইদুল ইসলাম লাশের সুরতহাল করেন।

তার দেয়া প্রতিবেদনে নিহতের মাথার ওপর কোপের জখম, গলার ডান পাশে লম্বা কোপের জখম (সেলাই করা), বুকের ডান পাশে কাধ সংলগ্ন কোপের জখম (সেলাই করা), বাম হাতের কনুইয়ের নিচে কোপের জখম এবং বৃদ্ধা আঙুলে কোপের জখমের কথা উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে কয়েক দুর্বৃত্তরা। এ সময় সঙ্গে থাকা স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি চিৎকার করে সাহায্য চেয়ে পাননি। নিজে খুনিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি।

রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। তিনি মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন।

এ ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় বাবার দায়ের মামলায় চন্দন নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ওএস/আইএম

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও