উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: আ.লীগের প্রতিপক্ষ আ.লীগই

ঢাকা, ২০ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: আ.লীগের প্রতিপক্ষ আ.লীগই

পিরোজপুর প্রতিনিধি ২:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৯

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: আ.লীগের প্রতিপক্ষ আ.লীগই

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। সভা-সমাবেশ, পথসভা, মিছিলসহ ভোটারদের ধারে ধারে গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকরা।

আগামী ১৮ জুন চতুর্থ তথা শেষ ধাপে মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের কোন প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

দলীয় প্রতীকের বাইরে গিয়েও নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, করছেন গণ সংযোগ। এর ফলে কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে পুরনো সহিংসতার ন্যায় হামলা ঘটনার শঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারি হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

এ দিকে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী হোসাইন মোসারেফ সাকুর (নৌকা) পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস, অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের আনারস প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে প্রকাশ্যে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুজ আশরাফুর রহমান।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। নানা দ্বন্ধ-সংঘাতের মধ্যদিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলেও দীর্ঘদিনের দ্বন্ধ নিরসন হয়নি। সেই নির্বাচনী রেশ কাটতে না কাটতেই তফসিল ঘোষণা হয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের।

গত ৩১ মার্চ তৃতীয় ধাপে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে প্রার্থীদের মাঝে শুরু হয় অস্তিত্বের লড়াই। মারমুখি হয়ে উঠে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রাথীর সমর্থকরা। এতে নৌকা প্রার্থী, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বর আহত হন অনেকে। নির্বাচনকে কেন্দ্রকরে প্রাণ হারায় স্বতন্ত্র প্রাথীর এক কর্মী।

এমন উত্তপ্ত নির্বাচনী সহিংসতায় গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করেন।

আসন্ন আগামী ১৮ জুন’র নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের রদ-বদলসহ বাড়তি নজরদারী রাখা হয়েছে। রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাকিল আহমেদ নওরোজ (চশমা প্রতীক) বলেন, আমি একজন মুসল্লী। আমি মসজিদে নামাজ পড়ি। নামাজ পড়তে গেলে অবশ্যই ইমাম সাহেবকে আমার মানতে হবে, অন্যথায় মসজিদ পাল্টাতে হবে। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়নের বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় তারাতো আওয়ামী লীগের কেউ হতে পারে না। তাদের তো দল পরিবর্তন করা উচিত। ১৮ তারিখের নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে জনগন ভোট বিপ্লব ঘটিয়ে তাদের দাঁত ভাঙা জবাব দেবে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফুর রহমান সিফাত (টিয়া প্রতীক) বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অংশগ্রহন করেনি, সেখানে দলের বাইরে থেকে নির্বাচন করতে কোন বাঁধা-নিষেধ নেই। মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে অপেক্ষা করছে।

দলীয় প্রার্থী হোসাইন মোসারেফ সাকু (নৌকা প্রতীক) জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসার কারণে ছুটে এসেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বঙ্গবন্ধূর আদর্শ বুকে লালন করে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ‘সিডর’র সময়ে বিদেশি একাধীক দুতাবাসের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতায় এলাকার গরীব-মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। জনগনের দোড়গোড়ায় পৌছেগেছি। আমার জনপ্রিয়তায়-গণজোয়ারে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিদ্রোহীপ্রার্থী ও তার সমর্থকরা আমাকে হত্যার চেষ্টা ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। আমি বিজয়ী হলে এলাকা থেকে মাদক ও সন্ত্রাসীদের মূল উপড়ে ফেলে শান্তিপূর্ণ মঠবাড়িয়া গড়ব ইনশাআল্লাহ্।

স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (আনারস প্রতীক) বলেন, ১৮ তারিখ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয় আমাদের নিশ্চিত। এটা বুঝতে পেরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার লোকজন মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, ভোট কারচুপি করে ক্ষমতা দখলের কৌশল অবলম্বন করছে। আমার নেতাকর্মীদের মারধরসহ হামলা, মামলা দিয়ে ঘর ছাড়া করে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনকে কলূষিত করে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে চায়। এতে সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষ ভোট প্রদানের সুযোগ পেলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো এবং মঠবাড়িয়াকে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও শতভাগ মাদক মুক্ত আধুনিক ডিজিটাল উপজেলায় পরিণত করবো।

পিরোজপুর পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে সমাপ্ত করার লক্ষে প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, আরআরএফ, ডিবি পুলিশের টিম কাজ করছে। ক্ষমতার বলে ভোট কারচুপির সুযোগ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এমএইচ

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও