মিলিকে হত্যা করেছেন শিক্ষক!

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

মিলিকে হত্যা করেছেন শিক্ষক!

বরিশাল প্রতিনিধি ৪:১১ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

মিলিকে হত্যা করেছেন শিক্ষক!

বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রী মিলি ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মিলি ইসলামের মা পারভীন খানম। একই সাথে বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক পুলিন চন্দ্র সরকারই মিলিকে হত্যা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

চলতি বছরের ৩ মে বরিশাল নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ডের ফিসারী রোডের আলী আজিমের ভাড়া বাসা থেকে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ছাত্রী মিলি ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মিলি ইসলাম বিএম কলেজের মাস্টার্স (হিসাব বিজ্ঞান) বিভাগের পরীক্ষার্থী ছিলেন।

মিলি ইসলামের হত্যার বিচার ও হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মিলির মা পারভীন খানম।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার মেয়ে বিএম কলেজের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সে নিজে আত্মহত্যা করতে পারেনা। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মডেল স্কুল এন্ড কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক পুলিন চন্দ্র সরকারের সাথে আমার মেয়ের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। পুলিন হিন্দু সম্প্রদায়ের হয়েও আমার মেয়ের কাছে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয়। এমনকি আমার মেয়ে মিলি ইসলামকে বিয়ে করবে বলেও আশ্বস্ত করে।

হত্যাকাণ্ডের ২মাস আগে আমরা পুরো বিষয়টি জানতে পারি। পুলিন একদিন আমাদের নথুল্লাবাদের বাসায় গিয়ে মিলি ও আমাদের হুমকি দেয়। সে মিলিকে বিয়ে করতে পারবে না বলে জানায়।

পুলিন বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে বলে বিয়ে করা সম্ভব না বলে জানায়।

মিলি বিষয়টি অধ্যক্ষ ও পুলিশের বাসায় জানিয়ে দেবে বলে হুমকি দিলে পুলিন তাতে বাধা দেয়। অভিযোগ করার জন্য মিলি দুই দিন স্কুলে যেয়ে আবার ফিরে আসে। পরে আবার পুলিন মিলিকে কারো কাছে না বলার জন্য পরামর্শ দেয় এবং সে তাকে খুব শিগগিরই বিয়ে করবে বলে জানান।

তিনি আরো জানান, ঘটনার আগের দিন মিলি ইসলাম ফিসারী রোডের ওই বাসায় সে ও তার স্বামী থাকবে বলে ভাড়া নেয়। রাতে পুলিন বাসায়ও আসে বলে জানান বাড়ীর মালিকের স্ত্রী শিউলী আজিম। আত্মহত্যার খবর পেয়ে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা পায়। এসময় মিলির ফোন একটি পানি ভর্তি পাতিলের মধ্যে ডুবানো ছিলো। আর মিলি গলায় ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝোলানো ছিলো তবে তার পা মাটিতেই ছিলো। এই ঘটনায় পুলিশ বরগুনা জেলার সদর থানাধীন ২নং গৌরীচন্ন এলাকা থেকে পুলিনকে গ্রেপ্তার করে। তবে পুলিশ তাকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালকে প্রেরণ করে। সেই মামলায় পুলিন চন্দ্র সরকার গত ৯ জুন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে পারভীন খানম বলেন, আমার মেয়েকে পুলিন ব্যবহার করেছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই হত্যার ঘটনার সুষ্ঠ বিচার ও অভিযুক্ত পুলিনের গ্রেপ্তার দাবি করছি।

তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

ইতিমধ্যে পুলিন সরকার জামিনে মুক্তি পেয়ে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে আমাদের হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে বিএম কলেজ ছাত্রী মিলি হত্যার ঘটনায় তার মা পারভীন খানম বাদী হয়ে পুলিন চন্দ্র সরকারসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে বরিশাল মোকাম বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৬৪/১৯।

আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পিআইবিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ওএস/এএসটি

 

বরিশাল: আরও পড়ুন

আরও