ভোলায় সূর্যমুখী ফুলে কৃষকের হাসি

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

ভোলায় সূর্যমুখী ফুলে কৃষকের হাসি

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা ২:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৬, ২০১৯

ভোলায় সূর্যমুখী ফুলে কৃষকের হাসি

ভোলায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে শতাধিক কৃষকের মাঝে। অনেকেই প্রথম বারের মতো এর আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন। তেলজাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর চাষ সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন দিন চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলন ভালো হওয়ায় সূর্যমুখীর উৎপাদিত তেল জেলার চাহিদা মিটিয়ে এখন অন্যান্য জেলায় রপ্তানি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সূর্যমুখী আবাদ ও তোলার মৌসুম। চলতি মৌসুমে ভোলায় ১৬ হেক্টর জমিতে সুর্যমুখী চাষ করা হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে। প্রতি একর জমিতে সূর্যমুখী ফলন এসেছে ৯৬০ কেজি। এ থেকে তেল পাওয়া যাবে প্রায় ৪৮০ কেজি।

দেশি প্রজাতির সূর্যমুখী থেকে হেক্টরপ্রতি ৪০০ কেজি ও হাইব্রিড প্রজাতিতে হেক্টরপ্রতি ৫০০ কেজি কোলেস্টরেলমুক্ত তেল উৎপাদন সম্ভব, যা অন্য তেলজাতীয় ফসলে চেয়ে বহুগুন পুষ্টিমান। প্রতিকেজি সূর্যমুখী তেল বাজারে ২৮০টাকা দামে বিক্রি করা যায়। সুর্যমুখীর তেল ছাড়াও খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

সরেজমিনে ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে সূর্যমুখীর সমারোহ। হিমেল হাওয়ায় মাঠে মাঠে সবুজের বিছানায় দোল খাচ্ছে হলুদ সূর্যমুখী। প্রতিটি ফুলের সাথে জড়িয়ে আছে কৃষকের হাসি। কেননা আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই বাজারে দাম বেশি থাকায় লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।

সদর উপজেলার উত্তর জয়নগর এলাকার মফিজুল ইসলাম ৩২ শতাংশ, জামাল বেপারী ২৮ শতাংশ, হারু সরদার ৩০ শতাংশ ও মাইনুর বেগম তিন একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন।

তারা জানান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা থেকে বিনামূল্যে বীজ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে সূর্যমুখীর চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তারা। ফসলও অনেক ভালো হয়েছে।

অন্যদিকে বোরহানউদ্দিনের লক্ষীপুর গ্রামের চাষী হারুনর রশিদ জানান, তার ৪৪ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষাবাদে ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদনও অনেক ভালো হয়েছে।

একই গ্রামের মজিবর মুন্সি ৩০ শতাংশ ও বেলাল মিয়া ২৮ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

তারা জানান, অন্য সফলের তুলনায় সূর্যমুখীর উৎপাদন অনেক সহজ। পোকা-মাকড়ের কোনো আক্রমণ নেই। তাছাড়া বাজারেও সূর্যমুখীর চাহিদা রয়েছে, দাম অনেক ভালো। আগাম সর্যমুখী ফসল কিনতে বেপারীরাও ভীড় জমাচ্ছেন।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন জানান, পল্লীকর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ইউনিটের সহযোগিতায় গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থা কৃষকদের বিনামূল্যে হাইসান-৩৩ জাতের বীজ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়ে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা।

তাই দিন দিন আরো বেশী কৃষক এ ফসল চাষে ঝুঁকছেন বলে জানালেন সংস্থাটির প্রধান এই কর্মকর্তা।

সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনের কথা স্বীকার করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ জানান, এবছর জেলায় প্রায় ১৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এ সূর্যমুখী চাষকে কৃষি বিভাগ নতুন সম্ভাবনা হিসেবে মনে করেছে।

সরিষা কিংবা সয়াবিন তেল বাদ দিয়ে সূর্যমুখী থেকে উৎপাদিত ভোজ্য তেল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

এএসটি/

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও