ইলিশ রক্ষায় রাত জেগে নদী পাহারা দিচ্ছেন মৎস্য কর্মকর্তা!

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

ইলিশ রক্ষায় রাত জেগে নদী পাহারা দিচ্ছেন মৎস্য কর্মকর্তা!

পিরোজপুর প্রতিনিধি ৪:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৮

ইলিশ রক্ষায় রাত জেগে নদী পাহারা দিচ্ছেন মৎস্য কর্মকর্তা!

চলছে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম। তাই নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষেধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও অনেক অসাধু জেলে মাছ শিকারের চেষ্টা চালিয়ে থাকেন। তাদের হাত থেকে মা ইলিশ রক্ষার জন্য দিন-রাত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী মৎস্য বিভাগ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ দিনের বেলায় জেলেদেরকে নানাভাবে মাছ শিকারে নিষ্ক্রিয় করে রাখেন। আর রাতের বেলায় নৌ পুলিশ নিয়ে নদীতে রাত্রী যাপন করেন। ফলে ইন্দুরকানী উপজেলা সংশ্লিষ্ট বলেশ্বর নদ, কঁচা ও পানগুচি নদীর জেলেদের কোনো ধরনের তৎপরতা দেখা যায় না। প্রচারপত্র বিলি, সভা সেমিনার, খেলাধুলা, পরামর্শ প্রদানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলেদের সাথেই দিন পার করেন এই কর্মকর্তা।

উপজেলার মা ইলিশ রক্ষা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিব আহমেদ সকল কর্মসূচি সফল করতে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছেন।

তাদের তৎপরতায় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে সাগর নদীর মাছ অবতরণ করছে না।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষায় ১৭৬টি উপজেলায় সাগর, নদ-নদীতে মাছ ধরার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অক্টোবর মাসের ৭ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে। কারণ প্রতিটি মা ইলিশ ২০ থেকে ২৩ লক্ষ ডিম দেয়। এই সময়টাতে ইলিশ মাছকে ডিম দেয়ার সুযোগ করে দিতে পারলে ব্যাপক হারে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলার ১ হাজার ৩৩০ জন নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলে রয়েছেন। আর অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭৭০ জন। তাদের জন প্রতি ২০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ জানান, আমি আইন প্রয়োগটাকে মুখ্য ভাবি না। মানুষ যদি সচেতন হয় তাহলে তারা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ইলিশ রক্ষায় এগিয়ে আসবে। আর জেলেরাও নদীতে নামবে না। তবেই আমরা ইলিশ উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। তাই আমার সাধ্য অনুযায়ী মা ইলিশ রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলার জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আ. হামেদ জোমাদ্দার জানান, আমাদের উপজেলার নদ নদীগুলোতে জেলেরা অবরোধ চলাকালীন সময়ে যাতে নামতে না পারে সে জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। আমরাও তাদের সাথে থেকে জেলেদের এই সময়টাতে মাছ শিকার না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। 

জেআইএএল/এএল/