ভোলায় মণ্ডপে মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

ভোলায় মণ্ডপে মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

ভোলা প্রতিনিধি ১০:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

ভোলায় মণ্ডপে মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

ভোলায় শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন রংতুলির কাজ চলছে। এবার জেলার সাত উপজেলায় ১০৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব সাড়ম্বরে উদযাপনের লক্ষ্যে পূজা কমিটিগুলোও নিচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর দূর্গাৎসবে দ্বিগুন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে আয়োজকদের।

এরপরও থেমে নেই কোন আয়োজন। রকমারী আলোক সজ্জা আর বর্ণালী বাহারে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ ও  তার আশপাশ। হাতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই রাত-দিন চলছে কাজের ধুম।

এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সবমিলিয়ে উৎসবের রঙে সেজেছে দেশের সর্ব দক্ষিণের দ্বীপ জেলা  ভোলা।

সরেজমিনে ভোলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে উৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি।

প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে কোন কোন মণ্ডপে চলছে রংতুলির কাজ, আবার কোথাও কোথাও চলছে সাজ-সজ্জা, প্যান্ডেল ও ডেকোরেশনের কাজ। আগামী ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বেলতলায় দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসব।

তাই পূজা মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিম শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মৃম্ময়ী দেবী ধীরে ধীরে চিন্ময়ী রূপ ধারণ করছে। অপরদিকে কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। ঘরে বাইরে পূজাকে নিয়ে চলছে চরম ব্যস্ততা। জামা কাপড় তৈরি, কেনা-কাটায় সরগরম বিপনিবিতানগুলো। চারপাশে চলছে উৎসবের আমেজ।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৭টি উপজেলার ১০৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ২৫টি, দৌলতখান উপজেলায় ৬টি, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ২০টি, তজুমদ্দিন উপজেলায় ১২টি, লালমোহন উপজেলায় ১৮, চরফ্যাশন উপজেলায় ১৫টি ও মনপুরা উপজেলায় ৯টি।

বিগত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমা তৈরিতে দ্বিগুন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানালেন ফরিদপুরের প্রতিমা শিল্পী বিষ্ণু পাল। দুর্গাপূজা এলেই ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ি, বরিশাল, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রতিমা গড়েন তিনি।

প্রতিবারের মত এবারও ভোলার ১২টি পূজা মণ্ডপে তৈরী করছেন দুর্গা প্রতিমা। গত বছরের তুলনায় এ বছর রং, মাটিসহ সব জিনিষের দাম ও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রাত-দিন পরিশ্রম করেও লাভের মুখ দেখছে না বলে জানালেন তিনি।

অপরদিকে একই কথা জানালেন কালীনাথ রায়ের বাজার লক্ষ্মী গোবিন্দ দুর্গাপূজা মণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক মিন্টু লাল কর্মকার। দুর্গোৎসবের ব্যয় দ্বিগুন হওয়ায় তাদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এব্যাপারে ভোলা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক গোরাঙ্গ চন্দ্র দে বলেন, উৎসবমুখর ভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ইতি মধ্যে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ স্থানীয় সাংসদ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে মতবিনিময় করেছেন।

সরকারি সংস্থাগুলো ছাড়াও বাণিজ্যমন্ত্রী তার নিজস্ব তহবিল থেকে সদর উপজেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপকে অর্থসহায়তা দেয়ার কথা দিয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রী পূজা চলাকালীন মণ্ডপ পরিদর্শন করার পাশাপাশি দরিদ্রদের শুভেচ্ছা উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যেন কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। তাই বিগত বছরের তুলনায় এবছর আরো উৎসব মূখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন তিনি।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেন জানান, শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। পূজা চলাকালীন দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন পূজা মণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলোতে বিশেষ নজরদারী রাখবে বলেও তিনি জানান।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শারদীয় দূর্গোউৎসব পালনে পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগীতার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার।

এএম/আরজি