সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫

সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান

বরগুনা প্রতিনিধি ৭:১৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান

বরগুনার বামনা উপজেলার কাকচিড়া-ডৌয়াতলা সড়কের দু’পাশ থেকে গত দুইদিনে ৬টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।

বুধবার বিকালে ইউপি চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে রাস্তার দুপাশের ২৬ বছর বয়সী চাম্বল ও মেহগনী গাছ কেটে নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কাছে রাস্তার পাশের ৬টি মূল্যবান গাছ কেটে নেন। এর আগেও তিনি ওই সড়কের মূল্যবান গাছ টেন্ডার ছাড়াই নিজ ক্ষমতায় কেটে নিয়ে যান।

ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে ডানিডার অর্থায়নে কেয়ার বাংলাদেশ বামনা উপজেলায় সকল ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় সামাজিক বনায়নের আওতায় সড়ক ও মহাসড়কে বিভিন্ন প্রজাতির বনজবৃক্ষ রোপন করে। ডৌয়াতলা-কাকচিড়া সড়কেও কেয়ার এই বনায়ন করে। 

জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের কোন গাছ কাটতে হলে প্রথমে পরিষদে রেজুলেশন করে টেন্ডারের আহবানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করতে হয়। পরে নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা গাছগুলো বিক্রি করার জন্য টেন্ডার আহবান করে। সবচেয়ে বেশি দরদাতার কাছে গাছগুলো বিক্রি করা হয়।

এই গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানায়, গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদ রোপন করেছে। পরিষদের এক সভায় রেজুলেশন করে ইউনিয়ন পরিষদের আসবাবপত্র তৈরির প্রয়োজনে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে টেন্ডার ছাড়া কেন গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে এ ব্যপারে তিনি জানান আসবাবপত্র তৈরির জন্য গাছের প্রয়োজন হলে শুধুমাত্র রেজুলেশন করে কাটা যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা বন কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুর রহমান আকন জানায়, এই সড়কে বন বিভাগের কোন গাছ নেই। এই গাছের প্রতি তাদের কোন দাবি নাই।

বরগুনা জেলা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রফিক হাসান বলেন, কোন প্রকারেই ইউনিয়ন পরিষদ শুধুমাত্র রেজুলেশন করে গাছ কাটতে পারে না। গাছ কাটতে হলে ইউএনও এর অনুমতি নিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে কাটতে হবে।

এবিষয়ে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার বলেন, টেন্ডার ছাড়া কোন ইউনিয়ন পরিষদ গাছ কাটতে পারে না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএস/আরজি