জোয়ার হলেই প্লাবিত হয় ঝালকাঠির শতাধিক গ্রাম

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

জোয়ার হলেই প্লাবিত হয় ঝালকাঠির শতাধিক গ্রাম

জহিরুল ইসলাম জলিল ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮

জোয়ার হলেই প্লাবিত হয় ঝালকাঠির শতাধিক গ্রাম

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া ও রাজাপুরের বিষখালী নদী তীরবর্তী ৪০ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলকার বেড়িবাঁধটি দশ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। বেড়িবাঁধ না থাকায় এখানকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। একটু জোয়ার হলেই তলিয়ে যায় ফসলের ক্ষেত। দুর্যোগের সময় পানি ঢুকে পড়ে বসতঘরে। বেড়িবাঁধ ও পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় দুর্ভোগে রয়েছেন বিষখালী নদী তীরের বাসিন্দারা।

উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠিতে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরে বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারে প্লাবিত হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁঠালিয়া উপজেলার পাঁচটি ও রাজাপুর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলাও। পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ ১০ বছর পার হলেও সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করা হয়নি বেড়িবাঁধটি। ফলে বর্তমানে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২/৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেলে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো তলিয়ে যায়। দুই উপজেলার শত শত হেক্টর জমির রোপা আমন ও আমনের বাজীতলাসহ লতাকৃষি তিল, মরিচ ক্ষেত নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা।

এছাড়াও পানিতে ভেসে যায় শতাধিক মাছের ঘেরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এখনো বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের অন্ত নেই।

মফিজ উদ্দীন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা খাইরুল আমিন ছগির জানান, উপজেলার আমুয়া থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত বিষখালী তীরবর্তী এলাকায় রক্ষাবাঁধ না থাকার কারণে জোয়ারের পানিতে নদী পাড়ের গ্রামগুলো ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে যায়। জান-মাল রক্ষার্থে বিষখালী নদীর পশ্চিম তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা অতি জরুরি।

জোয়ারে বৃদ্ধি পানি নামার আগেই পুনরায় জোয়ার হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা, বসতভিটা, বাগান-বাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার।

কাঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীর ভাঙন কবলিত রগুয়ার চড়, রগুয়ার দড়ি চড়, তালগাছিয়া এলাকা জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে চলতি মৌসুমে রাজাপুর উপজেলার বিষখালী নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ না থাকায় ২ হাজার ৪০০ শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তর উপ-পরিচালক শেখ আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বেড়িবাঁধ না থাকায় কৃষকরা জোয়ারের পানিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষকরা।

কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকন্দ মোহম্মদ ফয়সাল উদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। বিষখালী নদীর কবল থেকে কাঁঠালিয়া উপজেলা রক্ষার্থে প্রত্যেক মাসিক সভায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয় পানি উন্নয়ন বোর্ডে বড় আকারের প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। দ্রুত বরাদ্দের জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পেলে আগামী শুকনা মৌসুমে বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হবে।
জেআইজে/বিএইচ/