কুয়াকাটায় স্কুলছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, ধর্ষণের অভিযোগ

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

কুয়াকাটায় স্কুলছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, ধর্ষণের অভিযোগ

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৮

কুয়াকাটায় স্কুলছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, ধর্ষণের অভিযোগ

মহিপুর হাই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে রহস্যজনক ঘটনায় ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সেরাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে ঘটনার পর অন্ততঃ ঘন্টাখানেক শিশুটির মা সালমা বেগম (২৫) সংজ্ঞাহীন ছিলেন। স্থানীয় মানুষ ডাকাতদের দুর্বৃত্তপনার সন্দেহ করলেও পুলিশ অন্য কথা বলছে।

নিহত শিশুকন্যার চাচা, মো. ইউসুফ ঘরামী এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার ভাই ইসমাইল ঘরামীর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এসময় মা সালামা বেগম দৌড়ে পাশের বাড়ি গিয়ে ডাকাত ডাকাত বলে
চিৎকার দিয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে।

তার ডাকচিৎকারে আসেপাশের লোকজন এসে ঘরে ছোট্ট দুই শিশুকে দেখতে পেলেও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ইভাকে খুঁজে পাচ্ছিল না তারা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঘরের দোতলায় বিবস্ত্র অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায়।

এসময় তার শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে দেখে দ্রুত উদ্ধারকারী লোকজন কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেরাজপুর গ্রামের আবুল কালাম হাসপাতাল থেকে এ প্রতিবেদককে বলেন, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা ধারনা করছি। এলাকার মানুষের ডাকাত আতঙ্কে ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

ডা. আরিফুজ্জামান জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মারা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

এদিকে, এ ঘটনার খরবর পেয়ে ওই এলাকার লোকজন রাত ৯টার দিকে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের গ্রামগুলোতেও। ঘটনার সময় নিহত শিশুটির বাবা ইসমাইল ঘটরামী ঘরে ছিলেন না। তার ভাই ইউসুফ ঘরামী মোবাইল ফোনে দাবি করেন, মা-মেয়ে দু’জনেই গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য মো. মামুন হাওলাদার বলেন, হাসপাতালে এসে আমরা শিশুটির গোপনাঙ্গ থেকে প্রচুর রক্ষক্ষরণ হতে দেখেছি।

মহিপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান শিশুটি নিহতের খবর নিশ্চিত করে বলেন, এলাকায় ডাকাতের গুজব রয়েছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এটি এখনও স্পষ্ট নয়। শিশুটি ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষার আগে বলা যাবে না। এ ছাড়া শিশুটির মায়ের সাথে কথা বলে বোঝা যাবে কি হয়েছিল।

এনইউবি/আরজি